বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৬, ১১:১৯:৪৫

রাজ্জাককে নিয়ে যা বললেন কবরী

রাজ্জাককে নিয়ে যা বললেন কবরী

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা নায়ক রাজ রাজ্জাক। এই কিংবদন্তির ৭৫ তম জন্মদিন ২৩ জানুয়ারি। তার জন্মদিনকে ঘিরে চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী ও কলাকৌশুলীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এমনকি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলও এই গুণী অভিনেতার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিলো সব থেকে বেশী জনপ্রিয়। একাধীক ব্যবসা সফল ছবিও উপহার দিয়েছেন এই জুটি। এই অভিনেতার সাথে কবরীর প্রথম দেখা হয় ‘যোগাযোগ’ ছবি দিয়ে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত এই ছবি উপলক্ষেই তাদের প্রথম পরিচয়।

নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৫তম জন্মদিনে বাংলা সিনেমার মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে তিনি অতীত হাতরে বলেছেন অতীতের অনেক মিষ্টি কথা।

কবরী বলেন, দিন, তারিখ, মাস, বছর কোনোটাই মনে নেই। শুধু মনে আছে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘যোগাযোগ’ ছবির মাধ্যমে রাজ্জাকের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, শেষ পর্যন্ত ছবিটি আর তৈরি হয়নি। এই ছবির জন্য কথা বলতে গিয়ে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সঙ্গেও পরিচয় হয়। এরপর তার বাসায় রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে অনেক গল্প হয়। একটা পরিকল্পনাও হয়। তখনো আমি তার সঙ্গে কোনো ছবিতে অভিনয় করিনি।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ’ ছবি নিয়ে আলাপ করতে করতে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও তৈরি হয়ে যায়। ‘ময়নামতি’ ছবির পর আমাদের নিয়ে চারদিকে হইচই শুরু হয়ে যায়। এর আগে ও পরে অনেক ছবিতে কাজ করি। ছবিগুলো করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক মিষ্টি মুহূর্ত পেয়েছি। রয়েছে অসংখ্য গল্পও’।

কবরী জানান, ‘সে সময় আমার বয়সও অনেক কম ছিল। গল্প আর আড্ডায় আমাদের মধ্যে নিটোল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তখনকার সময়েও আমাদের বন্ধুত্বকে সাধারণ মানুষ বাঁকা চোখে দেখত। কিন্তু এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চলচ্চিত্রের লোকেরা খুব উপভোগ করত। তারা নিশ্চিত ছিলেন, রাজ্জাক ও কবরীর মধ্যে অদৃশ্য কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শুধুই বন্ধু। আমাদের জুটি তৈরি হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে। আমাদের খুনসুঁটি হতো। এ নিয়ে মান-অভিমানেরও শেষ ছিল না। কোনো ছবির শুটিংয়ে আবার মান-অভিমানের দৃশ্যগুলোতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে মনে হতো না, অভিনয় করছি। মনেই হতো, বাস্তবতার নিরিখে আমরা মান-অভিমানের ব্যাপারগুলো তুলে ধরছি। নিটোল বন্ধুত্বের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘একটা সময় তো তার পরিবারের সঙ্গেও আমার দারুণ একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রাজ্জাক সাহেবের স্ত্রী লক্ষ্ণীও আমাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কে ভালোই জানতেন। তাই এ নিয়ে তিনি কিছুই মনে করতেন না। তার বাচ্চারাও আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করত’।
২১ জানুয়ারি, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/এসপি/এমএন

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে