বিনোদন ডেস্ক : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন মারা যান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ)। তার হঠাৎ মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভিনেতার এমন নীরবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মীরা।
তার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় ভরে ওঠে টাইমলাইন। কেউ লিখেছেন, ‘এভাবে চলে যাওয়ার কথা না’, কেউ বলছেন, ‘শেষবার দেখা হলো না’। আবার অনেকেই জানাচ্ছেন, অল্প কিছুদিন আগেও তাকে তুলনামূলক সুস্থই দেখেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কী ঘটেছিল?
অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল শামস সুমনের সঙ্গে। তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি বলছিলাম, এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। না গেলে আমি লোক দিয়ে পাঠাব। সে বলছিল, যাচ্ছি, যাচ্ছি। কিন্তু বুঝিনি—এই যাওয়াটাই শেষ হয়ে যাবে।’
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শামস সুমনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ১৭ মার্চ বিকেল পাঁচটার পরপরই তাকে দ্রুত রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পৌঁছেও তিনি সচেতন ছিলেন—নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেছেন, আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
হাসপাতালে উপস্থিত অভিনেতা মাসুদ রানা মিঠু বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি ভাইকে এমআরআই রুমে নেয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর নিজেই হেঁটে বের হয়ে এলেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমরা বললাম, ভাই আমরা আছি। উনি বললেন, আচ্ছা। তখন তো মনে হয়নি, এত বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার মধ্যেই হঠাৎ নেমে আসে বিপর্যয়। এমআরআই শেষে ড্রেসিংরুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সহকর্মীরা ছুটে যান। কয়েকজন মিলে তাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তখন তিনি কাতর স্বরে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে নীরব হয়ে যান।
দ্রুত শামস সুমনকে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। শুরু হয় চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে সেই লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে জানা যায়, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে।
জীবনের শেষ সময়টা শামস সুমনের জন্য সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা, শারীরিক জটিলতা এবং একধরনের ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে ছিল। স্ত্রী ও সন্তানেরা ছিলেন দেশের বাইরে। তবু তার ইচ্ছা ছিল আবার কাজে ফেরার—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর।