রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৫৯:৩৬

নানুবাড়ি নিয়ে এক আবেগঘন ও স্মৃতিমাখা ভাবনা শেয়ার করলেন তাসনিয়া ফারিণ

নানুবাড়ি নিয়ে এক আবেগঘন ও স্মৃতিমাখা ভাবনা শেয়ার করলেন তাসনিয়া ফারিণ

বিনোদন ডেস্ক : ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর আর ব্যস্ততার ফাঁকে শৈশবের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আকুলতা কার না থাকে? দেশের ছোট ও বড়পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানুবাড়ি নিয়ে এক আবেগঘন ও স্মৃতিমাখা ভাবনা শেয়ার করেছেন। 

তার এই লেখাটি যেন নিখাদ এক শৈশবের প্রতিচ্ছবি, যা আমাদের প্রতিটি বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর কথা। ফারিণের সেই আবেগমাখা কথাগুলো যেন এদেশের প্রতিটি মানুষের গ্রামীণ শিকড়ের গল্প। 

অভিনেত্রী লিখেছেন—‘ছোটবেলার নানু বাড়িটা এখনো আগের মতোই। রঙিন বাড়ি শুধু রঙটা একটু ফিকে, শান বাঁধানো ঘাট তবে এক সিঁড়ি জল বেশি, জাম্বুরা গাছে এবার ফলন ভালো, মাটির পুরনো গন্ধ সবই আগের মতো। শুধু নেই কোলাহল, অট্টহাসি আর সেই পুরনো ক্রিকেট ম্যাচ। কারণ এখন দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ।’ 

ফারিণের এই ছোট্ট স্মৃতিমাখা কথাগুলোতে উঠে এসেছে সময়ের অনিবার্য পরিবর্তন। শৈশবে নানুবাড়ি মানেই ছিল মামাতো-খালাতো ভাইবোনদের নিয়ে হইচই, দুপুরের মিষ্টি রোদে পুকুরঘাটে ভেজা পায়ে ছোটাছুটি কিংবা উঠানে ব্যাট-বল হাতে জমে ওঠা তুমুল ক্রিকেট ম্যাচ। 

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ভাইবোনেরা আজ বড় হয়েছে, জড়িয়ে পড়েছে যার যার কর্মব্যস্ত জীবনে কিংবা প্রবাসে। নানুবাড়ির উঠান আজও আগের মতো রঙিন আছে, জাম্বুরা গাছে থোকা থোকা ফলও ধরছে ঠিক আগের নিয়মে, কিন্তু সেই চিরচেনা প্রাণের কোলাহল আর নেই। কারণ, সবাই এখন জীবনের তাগিদে ব্যস্ত। 

এই বাস্তবতাই যেন এক লাইনে তুলে ধরেছেন ফারিণ—‘এখন দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ।’ 

আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এই ‘নানুবাড়ি’ বা ‘দাদুবাড়ি’। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে ফারিণের মতো তারকারাও খুঁজে ফেরেন নিজেদের শেকড়। শৈশবের গন্ধমাখা মাটি, ফিকে হয়ে যাওয়া রঙের দেওয়াল কিংবা পুকুরঘাটের শান বাঁধানো সিঁড়িগুলো আমাদের মনের গভীরে আজও বেঁচে আছে। 

অভিনেত্রীর এই ভাবনা কেবল তার ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি যেন হাজারো বাঙালির অন্তরের কথা—যারা বড় হওয়ার সাথে সাথে হারিয়ে ফেলেছেন শৈশবের সেই সোনালী সময়গুলোকে, কেবল স্মৃতির মণিকোঠায় জমা করে রেখেছেন ফেলে আসা দিনগুলোর ঘ্রাণ। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে