বিনোদন ডেস্ক : জীবনযাপনে তিনি অন্য রকম এক মানুষ। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, পাসপোর্ট নেই, নেই ব্যাংক হিসাব কিংবা বিকাশ নম্বর।
হোল্ডিং নম্বরও নেই। অনেককাল ছিল না মোবাইল ফোনও। বহুদিন ধরে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন। একা থাকেন।
কবিতা লেখেন, অভিনয় করেন। শব্দ আর চরিত্রের মধ্যে তাঁর বসবাস। তাঁর কবিতা অসংখ্য পাঠকের মন অন্দোলিত করে, অভিনয়ও ছুঁয়ে গেছে অগণিত দর্শককে। তিনি আশির দশকের কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী।
আপাদমস্তক বোহেমিয়ান কবি রিফাত চৌধুরী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তীব্র শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কোমর ও পায়ের সমস্যায় ভুগছেন। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না, অন্যের সহায়তা ছাড়া দাঁড়াতেও কষ্ট হয়। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে সম্প্রতি তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শুরুতে বেড না পেয়ে দুই দিন হাসপাতালের মেঝেতে কাটিয়েছেন। শেষে মিলেছে কেবিন।
হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিট-৩-এর দশম তলার ১০৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন তিনি। এরই মধ্যে বেশির ভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। আরো কিছু পরীক্ষা শেষে সব রিপোর্ট একসঙ্গে দেখে মূল চিকিৎসা শুরু করবেন চিকিৎসকরা। রিফাত চৌধুরীর পাশে আছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ও কবি অমিতাভ অরণ্য। তাঁর ভাষ্য, সব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে।
তবে কবির অসুস্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছে চিকিৎসা ব্যয়ের দুশ্চিন্তা। অবশ্য কঠিন এই সময়ে কবি একেবারে একা নন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মী, শিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বুধবার সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে কবি রিফাত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে। তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে সংগঠনটি।
১৯৬০ সালে কিশোরগঞ্জ শহরে জন্ম রিফাত চৌধুরীর। আশির দশকে কবিতা দিয়ে সাহিত্যজগতে প্রবেশ। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলিঙ্গনের নাম’। আশির দশকের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তিনি। সম্পাদনা করেছেন ‘ছাঁট কাগজের মলাট’। এ পর্যন্ত তাঁর ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘মেঘের প্রতিভা’, ‘বধির ব-দ্বীপ’, ‘সমুদ্রে নুনের পুতুল’, ‘আমি একজন ভৌগোলিক’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
অভিনয়েও তাঁর যাত্র দীর্ঘদিনের। নূরুল আলম আতিকের ‘বিজন মানুষ’ নাটকের মধ্য দিয়ে শুরু। এরপর পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
গণমাধ্যমে রিফাত চৌধুরীর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কবিকে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন তাঁর নিকটাত্মীয় শেখ সেলিম কবির। তিনি বলেন, ‘কেবিন পাওয়ায় খানিকটা স্বস্তি হয়েছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
প্রচলিত জীবনের কাঠামো রিফাত চৌধুরীকে বাঁধতে পারেনি। কবিতা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য তৈরি করেছেন আলাদা এক ভূগোল। কবি রিফাত চৌধুরী দ্রুত সুস্থ হয়ে তাঁর প্রিয় কবিতা ও অভিনয়ে ফিরে আসুন এটিই সহকর্মী, পাঠক, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।