বিনোদন ডেস্ক : প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে গত সপ্তাহ থেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বারবার নিজের অবস্থান বদলাচ্ছিলেন ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শ্রদ্ধা দুবে। পুলিশের হাত থেকে তার এভাবে বারবার বেঁচে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করতে শেষ পর্যন্ত তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি, অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন তিনি।
প্রেমিক শিবা শর্মাকে হত্যার অভিযোগে নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা দুবেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌর একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই ব্যবসায়ী রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে মারা যান। পরে তার পরিবার শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে তাকে হত্যার অভিযোগ তোলে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্রদ্ধা, তার বোন ও সহ-অভিযুক্ত রশ্মি দুবে এবং তাদের গাড়িচালক দানিশ লখনৌ থেকে প্রথমে নেপালে পালিয়ে যান। সেখান থেকে তারা পুনরায় নেপাল হয়ে রায়বেরেলি হয়ে আগ্রায় যান এবং সর্বশেষ নাগপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে আবারও পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন তারা।
অবশেষে উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ও নাগপুর পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ওই নারী, তার বোন ও চালককে নাগপুর থেকে খুঁজে বের করে।
এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, ‘গত সপ্তাহে দায়ের হওয়া মামলায় পলাতক অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে, গাড়িচালক দানিশ ও রশ্মি দুবের প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার লখনৌ পুলিশ, উত্তর প্রদেশ এসটিএফ এবং নাগপুর পুলিশের একটি যৌথ দল তিন অভিযুক্তকে নাগপুর থেকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত শিবা শর্মা লখনৌতে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর নিহত শিবার মা অভিযুক্ত প্রেমিকা ও তার বোনের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও হত্যার অভিযোগ আনেন।
এদিকে পলাতক থাকা অবস্থাতেই নিজের নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন শ্রদ্ধা।
এরই একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, শিবা আত্মহত্যা করেছিলেন।
ভিডিওতে শ্রদ্ধা বলেন, ‘আমি এই ব্যক্তিকে (শিবা শর্মা) মাত্র চার মাস ধরে চিনি; যার মধ্যে বড় জোর আড়াই মাস আমরা বন্ধু ছিলাম। তিনি কখনো আমার বাড়ি আসতেন না। কেবল শেষ দুই মাস তার যাতায়াত শুরু হয়েছিল—এত অল্প সময়ে পরিস্থিতি এতটাও খারাপ হতে পারে না যে আমাদের মধ্যে এমন কোনো খারাপ উদ্দেশ্য তৈরি হবে। শিবা তার মায়ের কথা শুনতেন না, আর তার মা আমার ওপর মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন কারণ তিনি আমাকে পছন্দ করতেন না।’