এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারার শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, শিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী পক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের বাধা দেন।
যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারী বলেন, শিডিউল জমা দেয়ার সময় ছিল দুপুর ১ টা পর্যন্ত। তারপর কয়েকজন শিডিউল নিয়ে আসলে জমা দিতে আমরা বাঁধা প্রয়োগ করেছি। এতে তারা আমাদের সফিল্লাহ (৩৫) কে মারধর করে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান বলেন, প্রশাসনের কারসাজিতে একপক্ষের শিডিউল জমা নেয়া হয়। এই টেন্ডারের বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় দেয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র পৌরসভায় টেন্ডার বাক্স রাখা হয়। তারা দাবি করেন, ছেঙ্গারচর পৌরসভার এই হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে, পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক।
তারা আরও বলেন, শিডিউল জমা দিতে বিএনপির যুবদল আবু সাইদ গং ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী গংরা বাঁধা দেয়। এসময় বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানের মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজনকে আহত করে তারা। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মন্ডল জানান, শিডিউল জমা নিয়ে দুপক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, একপক্ষ আরেক পক্ষকে বাঁধা দেয়ার বিষয়টি জেনেছি। সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের ৫ মিনিট আগে তারা এসেছে। এখন শিডিউল জমা দিতে না পারলে তারা ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি শিডিউলই জমা পড়েছে।