এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম। এতে উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ গত ২৩ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগবে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে প্রচন্ড ঝড়ের পর এসব এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। ঝড়ের কবলে উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫ গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব এলাকার অন্তত ৬০টি স্থানে গাছ-পালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর। এতে প্রায় দুই শতাধিক গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উপজেলার ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বানিজ্যিক ও ৪০০ শিল্প গ্রাহক রয়েছে। ১টি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্তত ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা, ২টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর উপজেলা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলাকায় প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এতে পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ে অন্তত ২৫টি খুঁটি উপড়ে গেছে। তাছাড়া গাছ ও গাছের ঢাল ভেঙে পড়ার কারণে অন্তত ৬০টি জায়গায় মেনলাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই শতাধিক গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি। উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন স্থানীয় দিনমজুরদের সহায়তায় রাতদিন কাজ করছে। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করতে সময় লাগবে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন।
সরেজমিনে উপজেলার একলাশপুর, কলাকান্দা, রাড়ীকান্দি, পাঁচানী, কালিপুর, ছটাকি, মোহনপুর, সুজাতপুর, গজরা, ষাটনলসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে খুটি উপরে পড়ে থাকতে এবং গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের উপর পরে তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলার বেশ কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক জানান, বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবারসহ জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সুপেয় পানির সংকটসহ বাড়িতে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে খুব বিপাকে পড়েছেন তারা।
ডায়াগনেস্টিক সেন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলে ফ্রিজে থাকা ক্যামিকেলের গুণগত মান ঠিক থাকবে না। এতে ক্যামিকেলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্যাকসিন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, আমাদের ভ্যাকসিন সংরক্ষণ স্টোরে এই মুহূর্তে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ শিশুকে দেওয়ার মত ভ্যাকসিন রয়েছে। জেনারেটর না থাকার কারণে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আমাদের ভ্যাকসিনগুলো এভাবে ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হবে না।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মতলব উত্তর উপজেলা জোনাল অফিসের এজিএম (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাঈম জানান, আমাদের এই অফিসের আওতায় উল্লেখযোগ্য গ্রাহকদের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৯০ হাজার, বাণিজ্যিক গ্রাহক ২০ হাজার আর শিল্প গ্রাহক ৪শ'। ঝড়ের কারণে আমাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন সচল করতে দিনমজুর নিয়ে আমরা বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে সামান্য কিছু লাইন সচল করতে পারবো বলে আশা করছি। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।