এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রোজার শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের ৮০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।
ঈদের এক দিন আগে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়।
রোজার শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের ৮০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও নিউ মার্কেট ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাতিরপুলে একটি মুরগির দোকানে দাঁড়িয়ে কথা হয় শহিদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, "ঈদের সময় একটু বেশি দাম থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায়। এই সময়ে বাসায় মেহমান আসছেন, তাই মুরগি কিনতেই হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "কিন্তু ঈদের তিন-চার দিন আগে ৩৬০ টাকায় সোনালি মুরগি কিনেছিলাম। আজ ৪০০ টাকায় কিনলাম। বিক্রেতারা একটা উপলক্ষ বা অজুহাত পেলেই দাম বাড়িয়ে দেন।"
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে ব্রয়লারের দাম উঠেছিল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। সে হিসাবে এখন দাম কিছুটা কমলেও রোজা শুরুর আগে বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় কেনা যেত। সে তুলনায় বর্তমানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি।
বর্তমানে লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩২০ টাকা। দেশি মুরগির দাম আকারভেদে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় উঠেছে। এ ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ টাকা।
রাজধানীর হাতিরপুলের মায়ের দোয়া চিকেন হাউজের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "ঈদের পর মুরগির চাহিদা বেড়েছে। আমরা আগের মতো মুরগি পাচ্ছি না, কারণ খামারে উৎপাদন কমে গেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। সে কারণে দাম একটু বেশি পড়ছে।"
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে টিবিএসকে বলেন, "গত সাত মাস ধরে ডিম ও মুরগি বিক্রি করে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাননি। লোকসান গুনতে গুনতে তারা আজ নিঃস্ব হয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।"
তিনি অভিযোগ করেন, খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এখন যে উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মূলত বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট।
ফিডের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও আমাদের দেশে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত দুই-তিন দিনে ফিডের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধের অজুহাতে এই চক্রটি সাধারণ খামারিদের পকেট কাটছে।"
তিনি বলেন, "ফিডের দাম যদি এখনই সরকার নির্ধারণ করে না দেয়, তবে এই সেক্টরের চার-পাঁচটি বড় কোম্পানির কাছে পুরো বাজার জিম্মি হয়ে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "এই মাফিয়া চক্র চাচ্ছে স্বাধীন প্রান্তিক খামারিদের তাদের 'চাকর' বানাতে। খামারিরা যখন নিরুপায় হয়ে খামার বন্ধ করে দেন, তখন এই কোম্পানিগুলোই আবার তাদের 'কন্ট্রাক্ট ফার্মিং'-এর প্রস্তাব দেয়। এর ফলে একজন স্বাধীন খামারি নিজের খামারেই পরাধীন হয়ে পড়েন।"
"উৎপাদন করেন খামারি, অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কর্পোরেট সিন্ডিকেট—এটা আমরা হতে দিতে পারি না। সরকার যদি অবিলম্বে এই মাফিয়া চক্রের লাগাম টেনে না ধরে, তবে সামনে পোল্ট্রি বাজারে আরও ভয়াবহ সংকট অপেক্ষা করছে," যোগ করেন তিনি।