শুক্রবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০৮:৪৩:১৫

কাপ্তাই হ্রদে ধরা পড়ছে ২৭ কেজির কাতল, ২০ কেজির বোয়াল!

কাপ্তাই হ্রদে ধরা পড়ছে ২৭ কেজির কাতল, ২০ কেজির বোয়াল!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর কাপ্তাই হ্রদে এবছর আবারো বৃহৎ আকারের ও বেশি ওজনের মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। বড় মাছের মধ্যে ২০ থেকে ২৭ কেজি ওজনের কাতল মাছ ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের রুই মাছ, ৬ থেকে ১২ কেজি ওজনের মৃগেল ও কালিবাউস, ৪ থেকে ১৫/২০ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ, ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের তেলাপিয়া মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সেই তিন দশক আগে কাপ্তাই হ্রদে যেভাবে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের চিতল মাছ পাওয়া যেত, এবছরও তেমনি বড় ধরনের মাছ জেলেরা শিকার করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে নির্দিষ্ট প্রজাতির দেশীয় মাছ ছাড়াও পাঙ্গাশ, বিদেশী জাতের মাগুর মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। বুধবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদে একটি ১০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ে স্থানীয় এক জেলের জালে।

শহরের রিজার্ভ বাজারের মৎস্য বিক্রেতা রাসেল এটি পাইকারিদরে কিনে ২১ শ' টাকায় মাছটি বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়িরা জানান, অন্যান্য বছরের ন্যায় কাপ্তাই হ্রদে এবছর দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে এবছর ১০ থেকে ১৪ কেজি ওজনের বাঘাআইর, ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের আইর মাছ ধরা পড়ছে জালে।

কর্ণফূলী নদী ও কাপ্তাই হ্রদের ভাঙ্গন রোধে ৮ শ’ কোটি টাকার পৃথক তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন

কর্ণফূলী নদী ও কাপ্তাই হ্রদের ভাঙ্গন রোধে তিনটি আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরোধ ও পুণঃখনন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনটি আলাদা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষাশেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে রাঙামাটির সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনটি প্রকল্পের মধ্যে ১২৮ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা প্রথম প্রকল্পের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের ভাঙ্গনরোধে রাঙামাটি সদরে ফিসারী ঘাট হতে পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক বাঁধটির উন্নয়ন ও সংরক্ষণের কাজ করা হবে।

এছাড়া ১৬৫ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাঙামাটি জেলার কর্ণফূলী ও কাচালং নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গনরোধে প্রতিরক্ষা কাজ শীর্ষক আরো একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙামাটি জেলার কর্ণফূলী ও ইছামতি নদী এবং সংযুক্ত খাল সমুহের উভয় তীরবর্তী বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা রক্ষাকল্পে নদীসমূহের ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণে সর্বমোট ৫০২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার আরো একটি প্রকল্পসহ মোট তিনটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী সংসদে জানান, কাপ্তাই হ্রদের ভাঙ্গন রোধ ও ড্রেজিংয়ে বর্তমানে কোনো প্রকল্প চলমান না থাকলেও এ নিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব সরকারের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং পর্যটন নগরী খ্যাত পাহাড় ও হ্রদ বেষ্টিত পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি করে অত্রাঞ্চলের নিন্মাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পানির স্রোতে এ অঞ্চলের কিছু অংশ প্রতি বছরই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এতে করে পার্বত্য এ জেলার প্রার্ন্তিক পর্যায়ের বিরাট একটি অংশ চরম দারিদ্রতা ও সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় উদযোগ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এদিকে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সর্বমোট ৬৩টি সেতু, কালভার্ট নির্মিত হয়েছে জানিয়ে ত্রাণ-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া-বীর বিক্রম বলেছেন, গ্রামীণ রাস্তায় কম-বেশি ১৫ মিঃ দৈঘ্যের সেতু, কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেই রাঙামাটি জেলায় সেতু, কালভার্ট নির্মাণে দরপত্র আহবান প্রক্রিয়াধীন আছে এবং শিগগিরই দরপত্র আহবান করা হবে।
এমটিনিউজ২৪.কম/এইচএস/কেএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে