শুক্রবার, ০২ মার্চ, ২০১৮, ০৭:০০:১৭

কালের সাক্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ২৪ হাজার শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ করেন!

কালের সাক্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ২৪ হাজার শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ করেন!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা মাঝ দিয়ে যে পদ্মা নদী তার ওপরেই কালের সাক্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ। কত শত ঘটনা কত শত নতুন শাসন এই ব্রীজটি দেখেছে তার ইয়ত্তা নেই।

১৮৮৯ সালের প্রথম আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যেই পদ্মার উপর ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।

যেই কথা সেই কাজ, ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে সেতু নির্মাণে নির্মাণের লক্ষ্যে সমীক্ষা শুরু হয়। ২৪ হাজার শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১৯১৫ সালে সেতুটির নির্মাণের কাজ করেন।

কেন এই ব্রীজটি মাহাত্ম্যপূর্ণ:
বিভিন্ন পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, হার্ডিঞ্জ ব্রীজের চেয়েও দৈর্ঘ্যে লম্বা ব্রীজ আছে ঠিকই কিন্তু এর কিছু বিষয় আছে যা অদ্বিতীয়। কেননা এর ভিত ১৬০ ফুট বা ১৯২ এমএসএল। সেসময় এটিই পৃথিবীর গভীরতম ভিতের অধিকারী ব্রীজ হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এ ব্রীজের জন্য রিভার ট্রেনিং ব্যবস্থা আছে তাও পৃথিবীতে অদ্বিতীয়। ব্রীজটি অপূর্ব সুন্দর ও আর্কষনীয় হওয়াতে ব্রিটিশ ইনচীফ ইঞ্জিনিয়ার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস’কে সাফল্যের পুরস্কারস্বরূপ স্যার উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার হয়। এসময় পাক হানাদার বাহিনী ব্রিজটির একাধিক বোমা বর্ষণ করে। এসময় সেতুটির ১২ নং স্প্যানটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভেতর যদিও মতপার্থক্য রয়েছে যে, পাকিস্থানি নাকি ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হামলায় ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্ত হবার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পুননির্মাণ:
ব্রিজটি পরে মেরামত করেন ভারতের পূর্ব রেলওয়ে শ্রী এইচকে ব্যানার্জী, চীফ ইঞ্জিনিয়ার শ্রী আরকে এসকে সিংহ রায়, ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার, শ্রী পিসিজি মাঝি, এ্যাসিসন্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এছাড়াও বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ছিলেন রেলওয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ আলী, ইঞ্জিনিয়ার ইন চীফ ইমাম উদ্দিন আহমেদ, ডিভিশনাল সুপার এম রহমান, প্রমূখ। -সময় নিউজ
এমটিনিউজ২৪.কম/টিটি/পিএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে