এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ‘হ্যালো স্যার, আমি হিন্দু। যাকে ভালবাসি সে মুসলিম, আমরা বিয়ে করতে চাই। সাহায্য করুন, প্লিজ!’ ‘নমস্কার ভাইয়া। আমরা রাজপুত, আমার প্রেমিক উত্তরপ্রদেশীয় ব্রাহ্মণ। আমরা প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু দুই বাড়ি ভীষণ গোঁড়া। আমরা দু’জনেই খুন হয়ে যাব, আমাদের বাঁচান!’
রোজ কয়েকশো আবেদন আসে ওদের ওয়েবসাইটে। কারণ তারা প্রেমের রক্ষক, ‘লাভ কম্যান্ডোজ।’ প্রেমিক-প্রেমিকাকে বাঁচানো, তাদের প্রেমের পূর্ণতা দেওয়াই তাদের ঘোষিত মিশন। যে শহরের রাস্তায় কিছু দিন আগেই ভিনধর্মের মেয়েকে ভালবাসার অপরাধে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলেন অঙ্কিত সাক্সেনা, সেই দিল্লিতেই তাদের সদর দফতর।
বিভিন্ন পেশা, আর্থসামাজিক স্তর, ধর্ম-জাত থেকে উঠে আসা কিছু মানুষ স্রেফ ভালবাসাকে ভালোবেসে একটা দল তৈরি করে ফেলেছিলেন ২০১১ সালে। সেই দল এখন এক প্রতিষ্ঠান। সংস্থার নথি অনুযায়ী গত ছ’বছরে লাভ কম্যান্ডোদের সাহায্য পেয়েছেন প্রায় ৩০০০০ প্রেমিক-প্রেমিকা!
ভারতজুড়ে এদের প্রায় পাঁচ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক, দিল্লি, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদে আটটি গোপন আস্তানা। সেখানে পালিয়ে আসা বা উদ্ধার করে আনা যুগলকে প্রয়োজনে মাসের পর মাস লুকিয়ে রাখা হয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ি থেকে পালানোর ফর্মুলা বাতলে দেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। দরকারে পাঁচিল টপকাতে, দড়ি বেয়ে নামতে, তালা ভাঙতে সাহায্য করেন।
বিশেষ প্রয়োজনে ধাক্কা, হাতাহাতি, মারামারি করে প্রেমের শত্রুদের ঢিট করার লোকও পাওয়া যায়। ট্রেন-বাসের টিকিট, ভাড়া গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, পুলিশ-আদালতের মোকাবিলাও তারা করেন। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী কিছু দিন আত্মগোপন করতে চাইলে তার জন্যও দেশ জুড়ে এদের ৫০০ অস্থায়ী আস্তানা আছে। পুরোটাই ‘ফ্রি সার্ভিস।’ খরচ উঠে আসে গোটা বিশ্ব থেকে আসা ডোনেশনের টাকায়।
আমির খান তার টিভি-অনুষ্ঠানের একটি পর্ব করেছিলেন লাভ কম্যান্ডোদের নিয়ে। খান চারেক তথ্যচিত্র হয়েছে তাদের উপর। নিজস্ব ‘থিম সং’ রয়েছে সংস্থার। প্রতিদিন সকালে প্রেমযোদ্ধারা কাজ শুরু করার আগে তাতে গলা মেলান।
আছে নিজস্ব ‘লোগো’, খাকি উর্দি পরা এক গোঁফওয়ালা লোক দু’হাতে দু’টি রিভলভার নিয়ে ত্রিভঙ্গমুরারীর মতো দাঁড়িয়ে, তার বুক, কপাল, ঘাড়ে লাল হৃদয়চিহ্ন জ্বলজ্বল করছে। ওয়েবসাইটে ২৪ ঘণ্টা ‘ব্রেকিং নিউজ’, কোন প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করা হল, কোথায় কার রেজিস্ট্রি হল, ইত্যাদি। এবিপি
এমটিনিউজ/এসএস