এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : পারিবারিক সমস্যার কারণে হতাশায় ভুগছেন মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম। তার মৃত্যুর পর এই ‘বিশাল সাম্রাজ্য’ কে সামলাবে, তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সমস্যাটা তৈরি হয়েছে তার তৃতীয় সন্তান ও একমাত্র ছেলে মইন নওয়াজ ডি কাসকারকে নিয়ে।
নিয়ম অনুযায়ী, তার উত্তরসূরি হওয়ার কথা থাকলেও বাবার এই সম্পত্তির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই মইনের। পারিবারিক ব্যবসা থেকে ইতিমধ্যেই মুখ সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। মনোযোগ দিয়েছেন ধর্মকর্মে। ধর্মশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান মইন নওয়াজ।
বাবার ব্যবসায় রুচি নেই। বাবার বেআইনি কারবার ছেড়ে একটি মসজিদে মৌলানা হিসাবে যোগদান করেছে সে। মুম্বাই পুলিশকে এমনটাই জানিয়েছে দাউদের ভাই ইকবাল কাসকর। তোলাবাজির অভিযোগে বর্তমানে জেলে রয়েছে ইকবাল।
তাকে নিয়মিত জেরা করেই দাউদের ছেলে মইন সম্পর্কে এই তথ্য জানা গিয়েছে। ইকবাল আরও জানিয়েছে, মইন দারুণ ধর্মপ্রাণ। কোরআন তার কণ্ঠস্থ। বরাবরই সে নাকি ইসলামের পথে হাঁটতে চাইত।
মহারাষ্ট্রের থানে থানার চাঁদাবাজি প্রতিরোধ সেলের প্রধান প্রদীপ শর্মা বলেন, এটা বোঝা যায় যে মইন তার বাবার অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে। তিনি মনে করেন, বাবার এই কার্যকলাপ তাদের পুরো পরিবারকে বিশ্বব্যাপী একটি কুখ্যাতি এনে দিয়েছে। এ জন্য তাদের পৃথিবীর সর্বত্র পালিয়ে বেড়াতে হয়।
এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, তিনটি চাঁদাবাজির মামলায় গত সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় দাউদ ইব্রাহিমের ছোট ভাই ইকবাল ইব্রাহিম কাসকারকে। প্রদীপ শর্মার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে দাউদ ইব্রাহিমের জীবনের এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
ইকবাল কাসকার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে কে তার এই বিশাল সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেবে, এটা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন দাউদ ইব্রাহিম। এ ছাড়া তাদের আরেক ভাই আনিস ইব্রাহিম কাসকার এখন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অন্য ভাইয়েরা মারা গেছেন। এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নেই, যাকে এই সাম্রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া যায়, এটা উপলব্ধি করছেন দাউদ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাউদ ইব্রাহিমের ভাই আরও জানান, তার ভাতিজা মইন একজন সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত মাওলানা। তিনি একজন কোরআনে হাফিজ। করাচির অভিজাত ক্লিফটন এলাকার পারিবারিক বিলাসবহুল বাংলোর স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে তিনি মসজিদেই বেশি থাকেন। তার স্ত্রী সানিয়া ও ছোট তিন সন্তান তার সঙ্গেই থাকে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া ছোট্ট একটি বাড়িতে তারা থাকেন। প্রদীপ শর্মা বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে মইন তাঁর বাবার ব্যবসার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এমনকি জাঁকজমকপূর্ণ জীবন থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।’
মইন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক করেছেন। আগে বাবাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করলেও আস্তে আস্তে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। ২০১১ সালে তিনি বিয়ে করেন করাচির ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মেয়ে সানিয়া শেখকে। বাবা দাউদের কালো কারবার নিয়ে নাকি বেশ কয়েকবার প্রতিবাদও জানিয়েছে সে। ফলে দাউদের সঙ্গে তার খটাখটি লেগেই থাকত।
তবে বিবাদ থাকলেও মইনের প্রতি নাকি দাউদ যথেষ্টই স্নেহশীল। মইন ছাড়াও দাউদ ও তার স্ত্রী মেজবানের আরও এক ছেলে এবং দুই মেয়ে। এদের মধ্যে একটি মেয়ে সাত বছর আগে অসুখে মারা গিয়েছে। তবে বর্তমানে দাউদ কোন দেশে রয়েছে তার কোন তথ্য জানা যায়নি।
এমটিনিউজ/এসবি