এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: রোজার মাসে আমাদের খাবার খাওয়ার অভ্যাসে অনেক পরিবর্তন আসে। এর ফলে অনেকেই গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন। সারা দিন পানি না খাওয়া, খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলে ও নিয়ম মেনে ইফতার না করলে গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, রোজার সময় ইফতারিতে ভাজা-পোড়া খাওয়া যাবে না। এতে পেটে গ্যাস হয়। তবে এর সহজ কিছু সমাধান রয়েছে। ইফতারিতে ফল, কাঁচা ছোলা, খিচুড়ি, দই-চিড়া এগুলোর মাত্রা বাড়িয়ে দিন। ইফতারি খেয়ে উঠে সাথে সাথে প্রচুর পানি খাবেন না। প্রায় ৪০ থেকে ৬০ মিনিট পরে পানি খান। তাতে পেটের এসিড গলায় উঠে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়া তরকারিতে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
ইফতারিতে যে খাবার গুলো খেলে আপনি গ্যাস সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন তা জেনে নিন।
দই: ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে দইয়ে। দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। খাবারের পর টকদই খাওয়া বেশ কার্যকর। চিড়ার সাথে দই খেতে পারেন এতে পেট ঠাণ্ডা থাকবে।
তরমুজ: তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি। রোজা রেখে যেহেতু পানি খাওয়া হয় না তাই এ সময় তরমুজ খাওয়া ভাল। এতে যে পটাশিয়াম থাকে, তা গ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আনারস: আনারসে আছে ৮৫ শতাংশ পানি এবং ব্রোমেলাইন নামের কার্যকর পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তবে দুধ জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল।
লেবু-পানি: পানি পানের সুফলের কথা সবাই জানেন। কিন্তু হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস যুক্ত করলে তা প্রাকৃতিক মলবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে কাজ করে। ইফতারিতে খেতে পারেন ঠাণ্ডা এক গ্লাস লেবু পানি।
শসা: প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন সি আছে শসায়। এতে উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। শরীরে পানি বাড়ায় আর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
কলা: কলায় যে পটাশিয়াম থাকে, তাতে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। কলা হজমে সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়। মুড়ির সাথে কলা খেয়ে নিন ইফতারিতে।
এমটিনিউজ২৪.কম/টিটি/পিএস