এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: ফ্রোজেন খাবারের স্বাদ ও সুবাস নিয়ে আছে প্রচুর অভিযোগ। বিশেষ করে রান্না খাবার বা তৈলাক্ত মাছ ফ্রোজেন করালে তার আগের মতো স্বাদ থাকে না। আলু বা অন্যান্য তরিতরকারি ফ্রোজেন অবস্থা থেকে গরম করার পর তা গলে গিয়েছে দেখা যায়। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ছে ডিপ ফ্রিজের।
এ সমস্যার শুরু খাবারের মধ্যকার পানি থেকে। খাবার সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনা হয়, তখন তা বরফে পরিণত হয়। ফলে খাবারের মধ্যকার কোষগুলো ফেটে যায়, তখনই গলে যাওয়া বা সুবাস নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এখানেই ফ্রিজার এবং ডিপ ফ্রিজের মধ্যে মিল ও অমিল। দুটি প্রযুক্তিই খাবারকে শূন্যের নিচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে। ফ্রিজার যেখানে তাপ শূন্যের নিচে নামাতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়, সেখানে ডিপ ফ্রিজিং নেয় সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। অত্যন্ত দ্রুত ফ্রিজিং করার ফলে খাবারের মধ্যকার পানি জমাট বাঁধলেও তার আকৃতি বৃদ্ধি পায় কম। ফলে কোষ ফেটে যাওয়ার পরিমাণ অনেক কমে যায়। ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ, ডিপ ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ থেকে মাইনাস ৫০ হতে পারে। খাদ্যদ্রব্যের তাপ ফ্রিজারে মাইনাস ৮ থেকে মাইনাস ১২ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, ডিপ ফ্রিজারে মাইনাস ১৮ ডিগ্রির ওপর তাপ উঠতে দেওয়া হয় না। ডিপ ফ্রিজে খাবার এক থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। সঠিকভাবে ডিপ ফ্রিজিং করাতে কিছু প্রণালী অনুসরণ করতে হয়। শুরুতে খাবারের তাপ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে তবেই ডিপ ফ্রিজিং করতে হবে। খাবার ফ্রিজিং করার আগেই হতে হবে জীবাণুমুক্ত। ডিপ ফ্রিজিং করা খাবারের বরফ ছাড়াতে হবে ধীরে, সরাসরি চুলায় দেওয়া যাবে না।
চাহিদা বেশি ডিপ ফ্রিজের
ঈদুল আজহার আগে নানা মডেলের ডিপ ফ্রিজ বাজারে আসে। চলে ছাড় আর উপহারের উৎসব।
ওয়ালটন : ওয়ালটন বিপণন বিভাগের প্রধান এমদাদুল হক সরকার বলেন, ‘ঈদ মেগা ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের’ আওতায় ক্রেতাদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করছে ওয়ালটন। ফ্রিজ কিনে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ক্রেতারা পাচ্ছেন নতুন গাড়ি। রয়েছে আরেকটি ফ্রিজ, টিভি, এসি বা মোটরসাইকেল পাওয়ার সুযোগ। এসব কিছু না পেলেও আছে নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। এই সুযোগ থাকবে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত।
তিনি জানান, ওয়ালটন ব্র্যান্ডের রয়েছে ৩০০ থেকে ১৪৬ লিটারের ১০ মডেলের ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজার। যার মধ্যে চলতি বছরে নতুন এসেছে চারটি মডেল। এগুলোর দাম ১৯ হাজার ৯৫০ থেকে ৩১ হাজার ২৯০ থেকে টাকার মধ্যে।
ট্রান্সটেক : ব্র্যান্ডটি ১০০ লিটার ধারণক্ষমতার ডিপ ফ্রিজ ছাড়ে মিলছে ১৮ হাজার ৯৯১ টাকায়। বাকিগুলোর মধ্যে ২৫২ লিটার ২৮ হাজার ৯৭৫, ৩০২ লিটার ৩৪ হাজার ৬৭৫, ৩৭০ লিটার ৩৭ হাজার ৯০৫, ৩০২ লিটার ৩২ হাজার ২০৫ এবং ১৫২ লিটার ২৩ হাজার ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সিঙ্গার : সিঙ্গার বিভিন্ন মডেলের ফ্রিজারে দিচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মূল্যছাড়। এর মধ্যে ১৩৮ লিটার ডিপ ফ্রিজ ২২ হাজার ৫০০, ২৬০ লিটার ২৮ হাজার ৮৫০, ১৫৮ লিটার ২৫ হাজার ৯৯০, ২৮৬ লিটার ৩২ হাজার, ১২১ লিটার ২৮ হাজার, ২০৫ লিটার ২৬ হাজার ৩০০ এবং ৩৮০ লিটার ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছে তারা।
র্যাংগস : ঈদ উপলক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে র্যাংগসের ডিপ ফ্রিজ। বর্তমানে আরসিএফ ৫২৯এমই মডেলের ১৫০ লিটার ২২ হাজার ১২৫, ১০০ লিটার ১৭ হাজার ৬২৫, ১১২ লিটার ১৯ হাজার ১২ এবং ৪০০ লিটার ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাটারফ্লাই : বাটারফ্লাই ১৭৫ লিটার ফ্রিজারের দাম ২৮ হাজার, ১২০ লিটার ২৫ হাজার, ৩০১ লিটার ৩৮ হাজার ৩৬৫ এবং ৪৬ লিটারের দাম ১৩ হাজার ১০০ টাকা।
এলজি : এলজির ৩১৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৪৫ হাজার ৯০০, ২১৫ লিটার ৩৫ হাজার ৯০০, ১৫৫ লিটার ২৯ হাজার ৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো সবই সাদা রঙের। তবে সিলভার রঙে নিতে হলে বাড়তি দুই হাজার টাকা গুনতে হবে।
ইলেক্ট্রা : ২০০ লিটার ফ্রিজারের দাম ২৬ হাজার ৮০০, ২৩০ লিটার ২৯ হাজার ৮০০, ১৮০ লিটার ২৫ হাজার ৬০০, ৩৫০ লিটার ৪৪ হাজার ৮০০ এবং ১৫৫ লিটারের দাম ২৩ হাজার ৪০০ টাকা।
ভিশন : ভিশনের ১৪৫ লিটার ফ্রিজার ২০ হাজার, ১১০ লিটার ২৪ হাজার, ২২০ লিটার ২১ হাজার ৫০০ এবং ১৭০ লিটার ২৮ হাজার টাকা।
শার্প : শার্পের ৪১৫ লিটার ফ্রিজার ৫৬ হাজার ৯০০, ১৫৫ লিটার ২৫ হাজার ৯০০, ২০৫ লিটার ৩১ হাজার ৯০০ এবং ৩১৫ লিটারের দাম ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।
কোথায় পাবেন?
দেশজুড়ে শোরুম রয়েছে ব্র্যান্ডগুলোর। পাশাপাশি রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট, মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, মিরপুর রোড, পান্থপথসহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাবে।
এমটিনিউজ২৪.কম/হাবিব/এইচআর