বুধবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০১:৩৩:৩৩

দুই নারীর সঙ্গে অদ্ভুত এক প্রতারণা!

দুই নারীর সঙ্গে অদ্ভুত এক প্রতারণা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  দুই নারীর সঙ্গে অদ্ভুত এক প্রতারণা করার কারণে তিন বছরের জেল দেওয়া হয়েছে ব্রিটেনের এক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে। কার্লোস ডেলাক্রজ নামের ওই ব্যক্তির কোনো পুরুষ জননাঙ্গ নেই। অথচ তিনি দুই নারীর সঙ্গে বছরের পর বছর যৌন মিলন করেছেন। যৌন মিলনের সময় তিনি পুরুষ জননাঙ্গের জায়গায় ওই নারীদের কাছে অজানা এক বস্তু ব্যবহার করেছেন। যৌন মিলনের সময় ঘর অন্ধকারে থাকায় ওই দুই নারী প্রথমে তা টের পাননি।

কিন্তু পরে তার জানতে পারেন ৩৫ বছর বয়সী কার্লোস ডেলাক্রুজ ‘প্রসথেটিক পেনিস’ বা কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যৌন মিলনে করেছেন। প্রথম নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর দ্বিতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান কার্লোস। প্রথম জনের সঙ্গে প্রায় তিন বছর সম্পর্ক ছিল। আর দ্বিতীয় জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল প্রায় এক বছর।

দুই নারীই জানান মিলনের সময় তারা তাদের জননাঙ্গে তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন। এবং পরে দেখতে পান তাদের জননাঙ্গে ক্ষতও তৈরি হয়েছে। আর তা থেকে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় ডেলাক্রুজের প্রতারণা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়।

২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৭ সালের মে মাসের মধ্যে ওই দুই নারীর সঙ্গে বহুবার যৌন মিলনে লিপ্ত হন কার্লোস। এবং তাদের অনুমতি ছাড়াই কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ তাদের যোনিতে প্রবেশ করিয়ে দেন।

গতকাল এডিনবার্গের আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

১৯৮৩ সালে স্পেনের মাদ্রিদে একজন নারী শিশু হিসেবে জন্ম হয় কার্লোসের।  কিন্তু আট বছর বয়সে গিয়ে তিনি ছেলে শিশুতে রুপান্তরিত হতে থাকেন। এরপর ১৬ বছর বয়সে নিজের নারী নাম বদলে পুরুষ নাম ধারণ করেন তিনি।

২০১০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান চাকরির সন্ধানে।

ডেলাক্রজকে এখন একজন পুরুষ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও নারী থেকে পুরুষ হিসেবে তার রুপান্তর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

কার্লোস ডেলাক্রুজ বর্তমানে একজন নারী সঙ্গীর সাথে দীর্ঘ-মেয়াদি সম্পর্কে জড়িয়েছেন। আর যৌন মিলনের সময় যে তিনি কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করেন তাও তার বর্তমান প্রেমিকা জানেন।

প্রতারণার শিকার দুই নারীর একজন জানান, কার্লোস ডেলাক্রুজের সঙ্গে যৌন মিলনের পর গর্ভবতী না হওয়ায় তিনি নিজের সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা আছে কিনা তা নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। নিজের ওপরই তার ঘৃণা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ব্যবহারের বিষয়টি জানার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এবং এখনো পেছনের কথা মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই নারীর মধ্যে নিজের নোংরাভাবে ব্যবহৃত হওয়ার অনুভুতিও কাজ করে।

দ্বিতীয় নারী জানান, ডেলাক্রুজের সঙ্গে যৌন মিলনের পর তার আট মাস সময়কালের মধ্যে ১০ বার রক্তপাত হয়েছে। আর এখন তার ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

দুই নারীই জানান, তারা বিশ্বাস করতেন তাদের প্রেমিক কার্লোস ডেলাক্রুজের সত্যিকার পুরুষাঙ্গই আছে। যদিও তারা তাকে কখনো নগ্ন অবস্থায় দেখতে পারেননি। কেননা সবসময় ঘর অন্ধকার করেই ডেলাক্রুজ তাদের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হতেন।

প্রতারণার শিকার প্রথম নারী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জানতে পারেন ডেলাক্রুজের কোনো পুরুষাঙ্গ নেই।

এরপর ২০১৬ সালের আগস্টে ডেলাক্রুজ দ্বিতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেন। এবং ২০১৭ সালের মে মাসে তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার কারণে। আর তার পরের মাসেই ওই নারী আবিষ্কার করেন যে ডেলাক্রুজের কোনো পুরুষাঙ্গ নেই।

ওই নারী জানান তারা অন্তত ১০ বার যৌন মিলন করেন। এবং প্রতিবার মিলনের সময়ই ওই নারী তীব্র ব্যথা পেতেন। এবং প্রথমবার মিলনের পর ওই নারীর যোনি থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়।

ওই নারীদের অভিযোগের পর আদালত ডেলাক্রুজের মেডিকেল চেকআপ করায়। সেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার কোনো পুরুষাঙ্গ নেই।

সূত্র: ডেইলি মেইল

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে