সোমবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৩:৫২:২০

রিকসা চালিয়েই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে রাকিব

রিকসা চালিয়েই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে রাকিব

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পর মা তিন ভাইবোনকে রেখে অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে যান। তখনই আট বছরের শিশু রাকিবের ঘাড়ে চেপে বসে সংসারের বোঝা। নানীর কাছে আশ্রয় নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি বোনকে বিয়ে দেয়া এবং নিজের পড়ালেখা রিকশা চালিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে রাকিব। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রংপুর মহানগরীর নিসবেতগঞ্জ ব্রিজের মোড়ে এক কিশোর রিকশাচালকের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপচারিতায় উঠে আসে এই গল্প। 

আনমনে রিকশার প্যাডেলে পা রেখে মহানগরীর নিসবেতগঞ্জ ব্রিজ বেয়ে ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে এগিয়ে চলা কিশোরটি কী যেন ভাবছিল। কিশোরটির বয়স বড় জোড় সতেরো অথবা আঠারো। নাম রাকিব। রংপুর মহানগরীর রেলওয়ে বস্তিতে নানীর সাথে থাকে সে। রাকিব, রহিমা ও কাওসার নামের তিন ভাইবোনকে নিয়ে। চোখে সরষে ফুল দেখতে থাকে রাকিব। একপর্যায়ে শুরু করে রিকশা চালানো। রিকশার আয় দিয়েই চলতে থাকে নানীর সাথে থাকা ভাইবোনের সংসার। চলতে থাকে পড়ালেখা। কিন্তু পড়ালেখা বারবার ব্রেক হয়। ২০১৬ সালে বোন রহিমার বিয়ে দেয় রাকিব। এরই মাঝে ভর্তি হয় নগরীর কুঠিরপাড়ায় বেসরকারি সংস্থা ইউসেপ চালিত স্কুলে। ২০১৮ সালে সেখান থেকে জেএসসি পাস করে। ওখানেই বিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছে রাকিব। ওই স্কুলে বই-খাতা-কলম ফ্রি পায়। কিন্তু রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে হয় তাকে। সে কারণে খুব একটা ক্লাস করা হয় না। ছোট ভাই কাওসারকেও স্কুলে ভর্তি করিয়েছে সে।

রাকিব এ প্রতিবেদককে জানায়, ইউসেপ স্কুলে ক্লাস করার পর রিকশা নিয়ে বের হই। এখন প্রতিদিন ২৮০ টাকা ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিককে দিতে হয়। তারপরেও গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা উপার্জন করি। এভাবেই বাবা মারা যাওয়া এবং মা চলে যাওয়ার পর নানীর সংসারে থেকে বোনটাকে বিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদের সংসার চলে ওই রিকশার টাকায় টানাটানি করে। রাকিব জানায়, রিকশা চালানোর কারণে পড়ালেখা করার সময় হয় না তেমন। 

তবুও জিপিএ ৩ পেয়ে জেএসসি পাস করেছি। আমার ইচ্ছা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সে কারণে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছি বিজ্ঞান বিভাগে। আল্লাহ যদি সহায় থাকেন তাহলে রিকশা চালিয়েই আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ইউসেপ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য তার কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই। 

রাকিব জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে হতো না আমাকে। পড়ালেখাও ভালোভাবে করতে পারতাম। কিন্তু জীবন আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। তবুও আমি স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কারো কাছে কোনো সহযোগিতা চাও কি নাÑ প্রশ্নের জবাবে সংগ্রামী এ কিশোরের খোলা জবাব না। যদি কেউ আমাকে সহযোগিতা নাও করে তবুও আমি ও ছোট ভাই মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। আমার কাছে রিকশার প্যাডেলই যথেষ্ট।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে