এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : হুইলচেয়ারে মনির-পারভিনের প্রেম ও বিয়ে কাহিনী হার মানালো সিনেমা’র গল্পকেও! মনির হোসেন সিকদার ৫ তলা বাড়ির এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে লাফিয়ে পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। অন্যদিকে গার্মেন্টসে আ’গুন ধরলে প্রাণে বাঁচতে ৬ তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন পারভিন আকতার। মাত্র ৯ বছর বয়সে তাকেও পঙ্গু হতে হয়।
চিকিৎসা শেষে দুজনেরই ভরসা এখন হুইলচেয়ার। নিজেদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে ভেবে যখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন তখন পারভিন ও মনিরের দেখা হয় সাভার সিআরপিতে। ২০১০ সালে প্রথম পরিচয় হয় তাদের।
এরপর তাদের মাঝে প্রেমের স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে পরে বিয়ে করেন তারা। কী’ভাবে হুইলচেয়ারের দুই আরোহী প্রেমে পড়লেন, কী’ভাবে সংসার করছেন, নিজেদের ভালোবাসা আর মান-অ’ভিমানের গল্প করেছেন এই দম্পতি।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে মনির হোসেন জানান তাদের প্রেম, বিয়ে আর নিত্যদিনের খু’নসুঁটির গল্প। মনিরের ভাষায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে তারা ৩০০ দিনই টুকিটাকি ঝগড়া করেন। পারভিন আকতার বেশি রাগ করলে কথা বলেন না তিনি। চুপ থাকেন।
অন্যদিকে পারভিন- যখন মনির কথা বলেন না তখন তিনি মনিরকে বলেন, তুমি কথা বলো না কেনো? আমি কি একা একা কথা বলে যাবো! তারা জানান, তাদের এ ঝগড়াটি বেশিক্ষণ থাকে না। কয়েক মুহূর্ত বা কয়েক মিনিটেই ঠিক হয়ে যায় সব। এই দম্পতি তাদের বিবাহীত জীবনে সুখি। বর্তমানে তারা দুজন থাকেন সিআরপি-তে। এখানেই চাকরি এবং বসবাস করেন তারা।
পারভিন জানান, মনির যখন তাকে প্রপোজ করেছিলেন তখন তিনি ভেবেছিলেন কিভাবে সম্ভব। দুইজন পঙ্গু লোক কি একসাথে সংসার করতে পারে? এরপর কিছুদিন বাদে পারভিন ভাবলেন না দেখি। তারা দুই বছর প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
কেন নিজে পঙ্গু হয়েও একজন পঙ্গু মহিলাকে বিয়ে করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মনির বলেন, আমি যদি কোনো সুস্থ মহিলাকে বিয়ে করতাম তাহলে সে আমা’র মতো হতো না। তার আর আমা’র মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতো। সে হয়তো আমা’র ওপর দয়া করতো। এখন আম’রা দু’জনকে দুজন ভালোবাসি। কেউ কাউকে দয়া করি না। সে আমাকে বুঝে আমি তাকে।
অ’পরদিকে একই প্রশ্নের জবাবে পারভিন বলেন, আমি চাইলে একজন সুস্থ ছেলেকে বিয়ে করতে পারতাম। সে আমা’র টাকার লো’ভে আমাকে বিয়ে করতো ঠিকই কিন্ত সে হয়তো একসময় আমাকে ছেড়ে চলে যেতো। মনির ও পারভিন তাদের পরিবারের সব কাজ ভাগ করে নিয়েছেন। তারা দু’জন মিলে পরিবারে সব কাজ করেন।