রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৬, ০৪:৪৬:০৯

থানায় ‘গুপ্তধন’!

থানায় ‘গুপ্তধন’!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: গুপ্তধন সাধারণত কোন নির্জন জায়গায় কিংবা কোন অচেনা দ্বীপ  বা গুহায় পাওয়া যাওয়ার কথা।  ইতিহাস ঘটলে বরাবরই তাই পাওয়া যায়। কিন্ত কখনো কি শুনেছেন থানায় পাওয়া গেছে মহামূল্যবান গুপ্তধন? কি নিশ্চয় অবাক হচ্ছে? অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ২৪পরগনার বারাসত থানায় ।

ব্রিটিশ আমল থেকে ১০৫ বছরে এই বারাসত থানায় একে একে বহু অফিসার এসেছেন, চলেও গিয়েছেন। বারাসত থানায় ডিউটি করে গিয়েছেন আর গুপ্তধনের কথা একবারও মাথায় আসেনি, এমন পুলিশ পাওয়া মুশকিল। শুধু পুলিশ নয়, বহু বারাসতবাসীর মনেও দীর্ঘদিন ধরে গুপ্তধনের ভূত বাসা বেধে আছে। কারণ, বারাসত থানার অফিসার’স রুমে যাঁরাই গিয়েছেন তাঁরাই লক্ষ করেছেন রুমের দেওয়ালে বসানো প্রায় আড়াই ফুট বাই পাঁচ ফুটের এক পেল্লায় সিন্দুক। মেঝেতে ঢালাই করে তা বসানো।

১৯১১ সালে ব্রিটিশ আমলে বারাসত থানার প্রতিষ্ঠা হয়। মাঝের এই সময়ে বহু অফিসার এই থানার দায়িত্বে এলেও সাহস করে কেউই ওই সিন্দুক খোলার চেষ্টা করেননি। কারণ, এটা খুলতে প্রয়োজন অনুমতিপত্র । বছর দশেক আগে বারাসত থানার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসি এই সিন্দুকের রহস্য উন্মোচনের ব্যাপারে সচেষ্ট হলেও বাধ সাধে ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ। সিন্দুক সরালে প্রাচীন এই থানা-ভবনের একটা বড় অংশ বসে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় তখনকার মতো ধামাচাপা পড়ে যায় এই প্রসঙ্গ । কিন্তু বছর দু’য়েক আগে থানার এই অংশের ছাদ থেকে চাঙড় খসে পড়লে নিরাপত্তার জন্য তড়িঘড়ি থানার পুরনো ভবনের নীচের ওই অংশের থেকে কর্মীদের সরিয়ে পাশের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন থেকেই থানার মধ্যেই তালাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে ওই সিন্দুক । যা ইতিমধ্যেই খোলার দাবি জানাচ্ছেন একাধিক সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, ও বারাসত-গবেষকরা।


অবিভক্ত ২৪ পরগনা, নদীয়া জেলার ইতিহাস-গবেষকপ্রবীন লেখক কমল চৌধুরী থেকে সাহিত্যিক গৌর মিত্র—  প্রত্যেকের দাবি ওই সিন্দুকে থাকতে পারে মহামূল্যবান নথি থেকে বিপুল অর্থ সম্পদ। যা আগামী দিনে ইতিহাস গবেষণার বড় পুঁজি হতে পারে। কমল চৌধুরীর দাবি, সিন্দুকে থাকতে পারে ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস-সংক্রান্ত বিরল দলিল দস্তাবেজ, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের চলাফেরার উপরে ব্রিটিশ সরকারের নজরদারির গোপন ফাইল থেকে বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কার নীতি মেনে নিতে না-পেরে বারাসতে কালিকৃষ্ণের বাগানবাড়িতে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের পুলিশি নথি। সাহিত্যিক গৌর মিত্রর দাবি, এই বিরাট সময়ের মাঝে ঘটে গিয়েছে দু’টি বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময়ে দিল্লি থেকে পাঠানো ব্রিটিশ পুলিশের জরুরি নির্দেশনামা থেকে বারাসতে নেতাজির আগমন ও বিপ্লবীদের নিয়ে তাঁর গোপন বৈঠকের পুলিশি রিপোর্ট মিলতে পারে রহস্যময় ওই সিন্দুক থেকে।   

এড়ানো যাচ্ছে না আর্থিক সম্পদের দিকটিও। তাঁদের দাবি অনুসারে, ব্রিটিশ আমলে আলাদা করে কোনও ট্রেজারি না থাকায় বারাসত থানার এই সিন্দুকেই থাকত দিল্লির সরকার বাহাদুরের উন্নয়ন প্রকল্পে পাঠানো অর্থ, থাকত স্থানীয় জমিদারদের থেকে আদায়কৃত রাজস্বও। অন্যদিকে বারাসতে ছিল বারোশেঠের বসবাস, যাদের নাম অনুসারেই নামকরন করা হয় বারাসত, এই ১২ শেঠ তাঁদের ধনসম্পত্তি রক্ষা করতে একসময়ে ওই সিন্দুক ব্যাবহার করত বলেও জানা যায় ।

সিন্দুক খোলার দাবি বাস্তবে রূপ নিতে পারে খুব শীঘ্রই। কারণ, বারাসত থানা সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যে কোনোও দিনই শুরু হতে পারে শতাব্দীপ্রাচীন এই থানা ভাঙার কাজ। দাবি মেনে নথি ও সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে খোলা হতে পারে সিন্দুক। সেক্ষেত্রে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ।
সূত্র: এবালা
১০ জানুয়ারি ২০১৬/এমটি নিউজ ২৪ ডটকম/জুবায়ের/রাসেল

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে