এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : পূর্ব ইউরোপের একেবারে মধ্যমণি ইউক্রেন। এদেশের পূর্ব আর উত্তর-পূর্ব দিক জুড়ে রয়েছে রাশিয়া। পুতিনের দেশের প্রভাব তার উপর প্রথম থেকেই বেশি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সেই রাশিয়া সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশটার উপর। ইউক্রেন জুড়ে বেজে উঠেছে সর্বনাশা যুদ্ধের ভয়ার্ত সাইরেন। ইউক্রেন নিয়ে কিছু অজানা তথ্য রইল আজকের প্রতিবেদনে।
রাশিয়ার গা ঘেঁষা এই দেশের উপর বিশালাকার রাশিয়ার প্রভাব এতখানি যে অনেকেই ইউক্রেন সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানেন না। আন্তর্জাতিক শিরোনামে বৃহস্পতিবারের আগে ইউক্রেনের নাম কমই উঠেছে। ইউরোপের বৃহত্তম দেশ ইউক্রেন ইউক্রেন আয়তনের মাপে গোটা ইউরোপে বৃহত্তম। রাশিয়া বড় ঠিকই, কিন্তু তা এশিয়া আর ইউরোপ দুই মহাদেশেই রয়েছে। ইউরোপে রাশিয়ার যে অংশ রয়েছে তার আয়তন ইউক্রেনের চেয়ে কম।
৬০৩.৫৫ স্কোয়ার কিলোমিটারের এই দেশের জনসংখ্যা অবশ্য তেমন বেশি নয়। মাত্র ৪ কোটি ৩০ লাখ। সাত-সাতটি হেরিটেজ আছে ইউক্রেনে বিশ্বের সাত-সাতটি সংরক্ষিত হেরিটেজ রয়েছে ইউক্রেনে। প্রতিটিই ইউনেস্কো দ্বারা সংরক্ষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এদের মধ্যে রয়েছে কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথিড্রাল, লিভিভের ঐতিহাসিক সেন্টার আর কার্পেথিয়ানের জঙ্গলঘেরা অপূর্ব কাঠের চার্চ। ইউক্রেনের জাতীয় পোশাক বিশিবাঙ্কা ইউক্রেনের জাতীয় সাজপোশাক হল বিশিবাঙ্কা।
অন্যান্য পোশাকের চেয়ে এটি আলাদা, কারণ এতে ইউক্রেনের নিজস্ব এমব্রয়ডারি কাজ রয়েছে। লিনেনের তৈরি পরিষ্কার সাদা শার্ট আর তাতে হাতে সেলাই করা ফ্লোরাল আর অর্নামেন্টাল ডিজাইন, এই হল বিশিবাঙ্কার বিশেষত্ব। ইউক্রেনের ছেলে-মেয়ে সবাই এই পোশাক পরেন। বেশ কিছু ভূতুড়ে শহর আছে ইউক্রেনে ইউক্রেনেই বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক পারমাণবিক বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।
উত্তর ইউক্রেনের চেরনোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কেঁপে উঠেছিল ১৯৮৬ সালে। তারপর থেকে ইউক্রেনের একাধিক শহর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। এই অঞ্চলগুলি আসলে ভূতুড়ে। ভূতে বিশ্বাস নেই বলে কেউ কেউ এসব পরিত্যক্ত এলাকায় ঘুরতে যান বটে, তবে তার ঝুঁকি কিন্তু নিজেদেরই নিতে হয়। বিশ্ববিখ্যাত টানেল অফ লাভ ইউক্রেনেই রয়েছে। ক্ল্যাভেনে এক প্রায় পরিত্যক্ত রেল স্টেশন হল টানেল অফ লাভ। কেউ কেউ বলেন পৃথিবীর সবচেয়ে রোম্যান্টিক জায়গা এটাই।
দুদিক দিয়ে গাছগাছালি নিয়ে এসে প্রকৃতিই এই অসাধারণ টানেলটি তৈরি করেছে। মাঝে বয়ে গেছে একটাই রেলের ট্র্যাক। দলে দলে ইউক্রেনীয় যুগলরা ভিড় করেন এই টানেলে। কথিত আছে এখানে এলে প্রেমের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সবচেয়ে গভীর মেট্রো স্টেশন ইউক্রেনে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর মেট্রো স্টেশন। রাজধানী কিয়েভের আর্সেনালনায় মাটির ৩৪৬ ফুট নীচে পাতালের সুড়ঙ্গ ফুঁড়ে ট্রেন ছুটে যায় এঁকেবেঁকে। ১৯৬০ সালে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উদ্যোগে এই স্টেশনটি তৈরি হয়েছিল।
গ্যাস ল্যাম্পের উদ্ভাবন বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার। ইউক্রেনের লভিভ শহরের দুই ফার্মাসিস্ট জান জেহ এবং ইগনাসি লুকাসিয়েউইক এই অভূতপূর্ব আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ১৮৫৩ সালে। যে ছোট্ট ওষুধের দোকানে এই অভাবনীয় আবিষ্কার তারা করেছিলেন, তার স্মরণে সেখানেই আজ রয়েছে ছোট্ট একটা ক্যাফে, নাম গ্যাসোভা ল্যাম্পা। রুটির ভাণ্ডার ইউক্রেন বিঘার পর বিঘাজুড়ে গম চাষ হয় ইউক্রেনে।
গম এবং অন্যান্য ফসল এখানে এত বিপুল পরিমাণে হয় যে একে রুটির ঝুড়িও বলা হয়। এখনও পর্যন্ত এই ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ গম উত্পাদক দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী বিমানটি তৈরি হয়েছিল এই ইউক্রেনেই। তার নাম ছিল অ্যান্টোনভ অ্যান-২২৫ ম্রিয়া। মোট ৭১০ টন ওজন এই বিমান বইতে পারত। রাজধানী কিয়েভেই এই বিমান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের গ্রাসে ইউক্রেনের এই সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। রুশ হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে ভারী সেই বিমান।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সূর্যমুখী বীজের উত্পাদক হিসেবে ইউক্রেনের নামই করা হয়। যেমন সুন্দর এই ফুল, তেমনই মুখরোচক তার বীজ। সারা বিশ্বেই এই বীজের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। ইউক্রেনে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সূর্যমুখী বীজের উত্পাদনে ইউক্রেন রাশিয়া ও আমেরিকার থেকেও এগিয়ে। দ্য ইউক্রেন না শুধু ইউক্রেন কিছু কিছু ইংরেজি মিডিয়া পাবলিশার্স পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিকে মাঝেমাঝে 'দ্য ইউক্রেন' বলেও সম্বোধন করে থাকেন। এমনকি সে দেশের সরকারও কখনও কখনও এই নাম ব্যবহার করেন। কিন্তু দেশটার নাম সংবিধান অনুযায়ী শুধু 'ইউক্রেন'। ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের কবল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে ইউক্রেন। সূত্র : দ্য ওয়াল