শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২২, ০২:০৬:৩৪

জেনে নিন, মাথা গরম না করার সহজ উপায়!

জেনে নিন, মাথা গরম না করার সহজ উপায়!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: কথায় কথায় মাথা গরম হয়ে যায়। অভিজ্ঞরা বলে থাকেন, অতিরিক্ত মাথা গরম মানুষকে বদমেজাজি করে তোলে। মাথা গরম হওয়ায় ব্যক্তির মানসিক ভাবনায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। ফলে তার ব্যক্তিগত জীবনে খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করে। অফিসের সহকর্মী থেকে পরিবারিক জীবন, সবক্ষেত্রেই আপনাকে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমে আবেগ আসলে কী, সেই বিষয়টা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। অস্কারের মঞ্চে উইল স্মিথ যে ভাবে মাথা গরম করেছিলেন, তা হয় তো অযৌক্তিক। কিন্তু ভেবে দেখলে বুঝতে পারব, আমরা সকলেই জীবনে কখনও-না-কখনও এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। তবে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমে আবেগ আসলে কী, সেই বিষয়টা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। 

নিজেকে মানসিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বেশ সহনীয় ভাব প্রকাশ করতে পারার ক্ষমতাই হল আবেগ নিয়ন্ত্রণ। আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এবং মানসিক ভাবে অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়াগুলিকে দূরে রাখা যায়। একে মানসিক নিয়ন্ত্রণও বলা হয়, যা এক জন ব্যক্তির অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়া প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। তাই কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখানোই হল আবেগ নিয়ন্ত্রণ।

মানসিক নিয়ন্ত্রণ মানে এই নয় যে, আমাদের সমস্ত আবেগ চেপে রাখতে হবে এবং এই ব্যাপারে কথা বলা যাবে না কিংবা প্রকাশ করা যাবে না। শুধু নেতিবাচক অনুভূতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে যত ক্ষণ না পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হচ্ছে, তত ক্ষণ যুক্তিযুক্ত ভাবে চিন্তা করে ফলাফল বুঝে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না-দিলে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। 

আবার আবেগ নিয়ন্ত্রণের অনেক উপায় রয়েছে। কারণ আমরা কেউই একেবারে নিখুঁত নই এবং অনেক বার ভুলের মাধ্যমেই আমরা নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শিখতে পারি।

দুর্বল মানসিক নিয়ন্ত্রণের নেতিবাচক প্রভাব:
দুর্বল মানসিক নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাগ, বিরক্তি, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভয় দেখানোর জন্য আমরা অনেক কিছুকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি এবং অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারি। বেশির ভাগ সময়ে আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পরবর্তী কালে অনুশোচনা এবং বিরক্তির উদ্রেক হয়। 

তবে সেই সময়টা পরে আর ফিরে পাওয়া যায় না। সময়ের সঙ্গে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমাদের নিজেদের অবস্থা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

কীভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অভ্যেস করতে হয়?
নিজের আবেগকে (How to Control Anger) নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখতে হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু এটি অসম্ভব নয়। বেশ কিছু উপায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা অভ্যেস করতে হবে।

১. নিয়ন্ত্রণ করলেও আবেগ চেপে রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রতিক্রিয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং পরিণতিগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
২. কী ধরনের আবেগ অনুভূত হচ্ছে, তা বুঝতে হবে। অন্যরা কী চাইছেন, আমরা কী চাই, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বুঝতে হবে সত্যিই কড়া হওয়া দরকার না কি কিছু সময় পরে প্রতিক্রিয়া জানালেও হবে! 
৩. নিজের আবেগকে চিনতে হবে। কী অনুভূতি হচ্ছে এবং যে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হচ্ছে, তার কি আদৌ প্রয়োজন রয়েছে, সেটাও জেনে নেওয়া জরুরি।
৪. দীর্ঘশ্বাস নেওয়াও আবেগ নিয়ন্ত্রণের খুব ভালো পন্থা।

মনে রাখতে হবে যে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ইতিবাচক ভাবে ব্যবহার করাই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে