এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে ঘুমের বিকল্প নেই। শরীর মন ঠিক রাখতে প্রতিদিন আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। এমন কী ঘুমের অভাবে মানুষের শারিরীক ও মানসিক চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এদিকে এবারের ঘুম দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘গুণগত ঘুম, সুস্থ মন, সুখী পৃথিবী’।
জরিপ বলছে বর্তমান বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সঠিক ভাবে ঘুমান না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই স্লিপ লস সমস্যাকে ‘এপিডেমিক’ হিসেবে ঘোষণা করছে। একজন মানুষের রাতের ঘুমের ব্যাপ্তি গড়পরতায় ৮ ঘণ্টার কাছাকাছি হওয়া উচিত এটা কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি ৩ জনে ১ জন ঘুমজনিত নানারকম সমস্যায় ভুগছে।
নানারকম কারণ, যেমন- দীর্ঘদিন যাবত হাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া, হতাশা, উদ্বিগ্নতা, নাক্রোলেপসির মতো জিনগত কারণ (একধরনের নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার), বয়স বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন রকম ওষুধ সেবন, যেমন-কিছু কিছু এন্টিডিপ্রেসেন্ট, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে থাকে।
দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, যেমন-ঘুমাতে যাওয়ার কিছু আগে পেট ভরে খাবার গ্রহণ ও প্রচুর পানি পান করা বা অ্যালকোহল,কফি, সিগারেট খাওয়া, বিছানায় শুয়ে দীর্ঘসময় জেগে থাকা, অতিরিক্ত ঠান্ডা, গরম বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ঘুমাতে যাওয়া, দিনের বেলায় লম্বা সময় ঘুমানো, ব্যস্ততার সময়গুলোতে ঘুমের সময় কমিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করা, একেক রাতে একেক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া-এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক এবং পর্যাপ্ত ঘুমকে ব্যাহত করে।
ভালো ঘুমের জন্য রয়েছে বেশ কিছু পন্থা। রাতের পর্যাপ্ত ঘুম একজন ব্যক্তির সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির সঞ্চার করে এবং এর ফলে স্নিগ্ধ অনুভূত হয়। রাতে ভালো ঘুমের জন্য কিছু কিছু কাজ দৈনন্দিন অভ্যাসের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।
ঘুমোতে যাওয়ার ৯০ মিনিট আগে হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করা। বিছানায় যাওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে থেকে সকল রকম ডিভাইসের ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।
দুপুর ৩ টার পরে ক্যাফেইন রয়েছে এমন পানীয়, চকলেট বা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা।
নিয়ম করে প্রতিদিন প্রায় একই সময় রাতে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠা। ব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক রুটিন তৈরি করে কাজ করলে ঘুমের সময়ে হেরফের হয় কম।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা। মানসিকভাবে ফিট থাকতে হলে শারীরিক কসরতের জুড়ি নেই। ব্যায়াম না করতে পারলেও অন্তত নিয়মিত হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করতে হবে।