এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের মাধ্যমে অপরিচিত এক নারী ও পুরুষ পরস্পরের সঙ্গে বিবাহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। চার হাত এক হওয়ার পর একসঙ্গে থাকতে থাকতেই তাঁরা পরস্পরের আচার-আচরণ, ভালো-মন্দ বুঝতে শুরু করেন। তাই দেখেশুনে বিয়ে করার পর প্রতিটি দম্পতিকেই সতর্ক হয়ে পা ফেলতে হয়। নইলে যে যখন-তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সম্পর্কের মারপ্যাঁচ নিয়ে চর্চারত বিশেষজ্ঞদের কথায়, এদেশে যুগের পর যুগ ধরে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের প্রথা চলে আসছে। আর এই পদ্ধতি মেনে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে বাস করছেন অগুণতি দম্পতি। তবে মনে রাখবেন, সব ভালোরই কিছু খারাপ দিক রয়েছে। ঠিক তেমনই রয়েছে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজেরও।
আর এক্ষেত্রে সবথকে বড় সমস্যা হল, বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের বিষয়ে তেমন কিছুই জানতে পারেন না। শুধু একটা ভাসা ভাসা ধারণা থাকে মনে। তাই বিয়ের পর অত্যন্ত যত্ন করে এই সম্পর্কের হাল ধরতে হয়। নইলে যে সমস্যার শেষ থাকে না।
তবে আজকালকার অনেক নারী-পুরুষের মধ্যে ধৈর্যের অভাব থাকে। তাই তাঁরা এমন কিছু ভুল করে ফেলেন যা কিনা সম্পর্ককে খাদের কিনারে এনে দেয়। সেই কারণেই আগেভাগে সাবধান হতে হবে মশাই। এক্ষেত্রে এমন কিছু ভুল এড়িয়ে চলতে হবে যা সম্পর্ককে ভেঙে ফেলতে পারে। তাই আর দেরি না করে সেই সকল ভুলের দিকেই চোখ ফেরানো যাক।
১. সময়ের যে বড্ড অভাব: দুই অপরিচিত প্রাণ একে অপরের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন। তাই বিয়ের পর তো পরস্পরকে সময় দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। নইলে যে নিজেদের মধ্যে বোঝপড়ার ভিত গড়ে উঠবে না। তবে কে শোনে কার কথা! ব্যস্ততার বাহানা বানিয়ে অনেকেই বিয়ের পর সঙ্গীকে সময় দেন না। আর সেই কারণেই বাড়তে থাকে দূরত্ব। তাই এই ভুল আর নয়। বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও একে অপরের জন্য সময় বের করতে হবে, পরস্পরকে কাছ থেকে জানতে হবে। তাহলেই না আজীবন একসঙ্গে ঘর করতে পারবেন। নইলে যে সম্পর্কের নৌকা মাঝ নদীতেই ডুবতে পারে!
২. চাহিদা সম্পর্কে সন্ধিহান: বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের থেকে কিছু জিনিস আশা করেন। এক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক-দুই ধরনের চাহিদাই থাকে বর্তমান। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখেশুনে বিয়ে করার পর দম্পতীরা নিজেদের চাহিদা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন না। তবে ভিতরে ভিতরে অপূর্ণতার ক্ষোভ বাড়তে থাকে। আর একটা সময়ে গিয়ে এই অপূর্ণতাই দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আর দেরি না করে দ্রুত একে অপরের চাহিদা সম্পর্কে যে জানতেই হবে বন্ধু।
৩. মতের মিল না হলেই চিত্তির: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা পর্যায় পর্যন্ত মানসিকতার মিল থাকতেই হয়। ভাবনা-চিন্তায় আসমান-জমিন তফাত থাকলে কিন্তু মুশকিল। এমন পরিস্থিতিতে সুখে সংসার করা তো দূর, এক ঘরে থাকাটাই খুব চাপের হয়ে দাঁড়ায়। তাই সব বিষয়েই মতের অমিল হলে, একে অপরের সঙ্গে বসে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতেই হবে। কোথায় সমস্যা, কী করলে সমাধান- এই সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। তাহলেই সম্পর্কের গাড়ি মসৃণ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার রসদ পাবে।
৪. রোজকার ঝামেলাই অনর্থের কারণ: দেখেশুনে বিয়ে করার পর পরস্পরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তো কিছুটা সময় ব্যয় করতেই হবে। তবে অনেক দম্পতিই এই সামান্য সময়টুকু ব্যয় করতেও রাজি নন। বরং পান থেকে চুন খসলেই শুরু করে দেন চিল-চিৎকার। স্বামী চিৎকার করেন তো, স্ত্রীও তাঁর মোক্ষম জবাব তৈরি রাখেন। আর যুযুধান দুইপক্ষের এমন লড়াইতে বেচারা সম্পর্কের চারাগাছ শুকিয়ে যায়। তাই বিয়ের পর কথায় কথায় ঝগড়া বাধলে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
৫. চাপিয়ে দিলেই ফাঁসবেন: সকলের পছন্দ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই একজনের পছন্দকে অন্যজনের উপর আরোপ করার বদভ্যাস ছাড়তে হবে। বিশেষত, বিয়ের পর একে অপরের উপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিলে কিন্তু দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই ভুলটা আর নয়। বরং একে অপরের পছন্দকে সম্মান করুন। সঙ্গীকে নিজের মতো করে থাকতে দিন। এতেই দেখবেন সম্পর্ককে সহজে বাঁচাতে পেরেছেন।