এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : মাছ খাওয়ায় বাঙালিদের জুড়ি মেলা ভার। রুই, কাতলা, ভেটকি, ইলিশ, কই, ট্যাংড়া… নানা রকমের মাছের সুস্বাদু সব পদ খেতে আমাদের কোনও জুড়ি নেই। তাই অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা বাঙালিদের অনায়াসে ‘মাছপ্রেমী’ হিসাবে দাগিয়ে দেন।
তবে ‘ভালোবাসার বিড়াম্বনা’ বলে একটা কথা আছে। মাছের ক্ষেত্রেও কথাটা অনেকাংশে খাটে। আসলে মাছ খেতে খেতে অসাবধানতাবশতঃ অনেক সময়ই গলায় কাঁটা ফুটে যায়। আর তারপর শুরু হয় ব্যথা এবং অস্বস্থি। কিছুতেই গলা থেকে কাঁটা নামতে চায় না।
এখন প্রশ্ন হল, গলায় হঠাৎ করেই মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? এই প্রশ্ন নিয়েই আমরা হাজির হয়েছিলাম কলকাতা শহরের বিশিষ্ট ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্যের কাছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, আমাদের গলার ভিতরে অসংখ্য খাঁজ রয়েছে। সাধারণত সেই খাঁজেই কাঁটা পড়ে থাকে। শতকরা ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ঘটনাই ঘটে। তবে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে কাঁটা গলায় গেঁথেও যেতে পারে। তাই সাবধানতা জরুরি।
১. কাঁটা দেখতে পেলে বের করার চেষ্টা করুন: গলার উপরিভাগে কাঁটা ফেঁসে থাকলে তা দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে আঙুল দিয়ে বা ছোট চিমটের সাহায্যে সেই কাঁটা বের করার প্রয়াস করলেও করতে পারেন। তবে এই কাজটা বড়দের ক্ষেত্রেই করা যেতে পারে। ছোটদের গলায় কাঁটা ফুটলেও তা বের করার চেষ্টা না করাই ভালো। এতে কাঁটা আরও গেঁথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেই মত দিলেন ডা: ভট্টাচার্য। তাই এমন কাজ করার আগে সাবধান হন।
২. ভাত, কলা, মুড়ি খেলেই কাঁটা নেমে যায়: ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্যের কথায়, যেহুতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঁটা গলার কোনও খাঁজে পড়ে থাকে, তাই শুকনো কোনও খাবার খেলে তা নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই গলায় কাঁটা লাগার পর এই ধরনের খাবার খেতেই পারেন। এতে কাঁটা নেমে যায়। তবে অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের খাবার খেলে বুঝি গলার কাঁটা আরও বেশি ভিতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এমন ধারণার সারবত্তা নেই।
৩. অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন: আসলে জল খাওয়ার সময় ঢোক গিলতে হয়। আর একাধিকবার ঢোক গিলতে গিলতে এমনিতেই কাঁটা গলা থেকে নীচে নেমে যায়। তাই গলায় কাঁটা লাগলে অল্প অল্প করে বারবার জলপান করুন। এতেই দেখবেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাঁটা নেমে গিয়েছে। তবে এরপরও কাঁটা না নামলে একটা প্যারাসিটামল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। আসলে ঘুমের সময় আমরা অনেকবার ঢোক গিলে থাকি। ফলে ঘুমের ভিতরই অধিকাংশ সময় কাঁটা নেমে যায়।
৪. কাঁটা গলানোর কোনও ওষুধ নেই: অনেকেই মনে করেন, কাঁটা গলানোর ওষুধ খেলেই বুঝি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে একবার ভেবে দেখুন তো, যেই ওষুধ মাছের কাঁটাকে গলিয়ে দিতে পারে, তা গলার চামড়া বা পেশির কী হালই না করতে পারে! তাই মাছের কাঁটা গলানোর কোনও ওষুধই পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণত পেইনকিলার দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীকে বারবার করে ঢোক গিলতে এবং জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই দুটি কাজ করলে সহজেই সমস্যা মিটে যায়।
৫. কাঁটা গেঁথে গেলেই মুশকিল: ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্যের কথায়, কাঁটা একবার গলায় গেঁথে গেলে কিন্তু জল খেয়ে, ভাত খেয়ে বা কিছু খেয়েই কাঁটা নামবে না। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়েই কাঁটা বের করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে কাঁটা বের করা হয়। এছাড়া খুব কম সংখ্যক ক্ষেত্রে কাঁটা খুব খারাপ জায়গায় আটকে যায়। সেই পরিস্থিতিতে সার্জারি করারও প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, কাঁটা ফুটে যাওয়ার জন্য কারও প্রাণ যায় না। তাই এই ধারণাকে মন থেকে দূর করে দিন।-এই সময়
Disclaimer: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।