এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : উড়োজাহাজে জানালার পাশে বসে অনেক যাত্রী হতাশ হন, কারণ জানালা ঠিক তাদের চোখের বরাবর সামনে থাকে না। কখনো সামনের দিকে, কখনো একটু পিছনের দিকে চলে যায়। আকাশে মেঘ, সূর্যাস্ত বা নিচের দৃশ্য উপভোগের স্বপ্ন প্রায়ই পুরোপুরি সত্যি হয় না।
তবে এটি অনেকেই জানেন না যে, বিষয়টি নকশাগত ত্রুটি নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে প্রকৌশল, নিরাপত্তা ও খরচ সম্পর্কিত কারণ।
চলুন উড়োজাহাজের জানালা ও আসনের অমিল হওয়ার প্রধান কয়েকটি কারণ জেনে নেওয়া যাক।
বিমানের কাঠামোগত নকশা: জানালার অবস্থান বিমানের কাঠামোর শক্তি বজায় রাখার জন্য নির্ধারিত, যাত্রী আসনের সঙ্গে নয়।
নির্দিষ্ট সিট পিচ: যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করতে আসনের দূরত্ব নির্দিষ্ট। জানালার দূরত্ব এটি অনুযায়ী মিলানো সম্ভব হয় না।
যাত্রীসংখ্যা সর্বাধিক রাখা: প্রতিটি আসন জানালার সঙ্গে মেলালে আসনের সংখ্যা কমে যাবে, যা আয় কমাবে। তাই লাভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
মডুলার আসন বিন্যাস: আসনগুলো সহজ রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন বিমানে ব্যবহারযোগ্যতার জন্য মডুলার ব্লকে বসানো হয়।
বিমানের মডেলভেদে ভিন্নতা: ফিউজলাজ নকশা অনুযায়ী জানালার অবস্থান ভিন্ন হলেও, এয়ারলাইনগুলো প্রায় একই আসন বিন্যাস ব্যবহার করে।
খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ: জানালার সঙ্গে মিলিয়ে আলাদা আসন রাখলে খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ জটিল হয়।
এছাড়াও, বিমানের জানালা গোলাকার হয় কারণ এটি ভেতরের ও বাইরের চাপ সমানভাবে বিতরণ করে, ফাটল ধরা থেকে রক্ষা করে। বিমানের সাদা রঙ আলো প্রতিফলিত করে, তাপ কম শোষণ করে এবং ক্ষতচিহ্ন সহজে দেখা যায়।
উড়োজাহাজের আকাশে যে সাদা রেখাগুলো দেখা যায়, তা হলো কনট্রেইল, যা বিমানের গরম ধোঁয়া ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিশে বরফে পরিণত হলে তৈরি হয়।
সুতরাং পরের বার জানালার সঙ্গে আসন না মেলালে মনে রাখুন—এটি অবহেলা নয়, বরং নিরাপত্তা, প্রকৌশল ও অর্থনীতির সমন্বয়ে নেওয়া একটি বাস্তব সিদ্ধান্ত।