বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪৮:৪০

জানেন কী হবে অকটেনের গাড়ি পেট্রলে চালালে?

জানেন কী হবে অকটেনের গাড়ি পেট্রলে চালালে?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। এ অবস্থায় অকটেনচালিত অনেক গাড়ির মালিক বিকল্প হিসেবে পেট্রল কিনেই চাহিদা মেটাচ্ছেন। অথচ অকটেনে অভ্যস্ত গাড়িতে পেট্রল ব্যবহার করা ইঞ্জিনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ যদি নিরুপায় হয়ে পেট্রল ব্যবহার করেন, তবে এটি গাড়ির কর্মক্ষমতা ও স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পেট্রলের অকটেন রেটিং কম হওয়ায় এটি ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে সময়ের আগেই জ্বলে উঠতে পারে। এতে ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ বা 'নকিং' তৈরি হয়, যা পিস্টন ও সিলিন্ডারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে অকটেন আলাদা কোনো জ্বালানি নয়। এটি জ্বালানির দহনক্ষমতা পরিমাপের একটি একক। বাজারে যে জ্বালানিকে অকটেন নামে বেচাকেনা হয়, সেটি মূলত উচ্চমানের পরিশোধিত পেট্রল, যার অকটেন রেটিং সাধারণত ৯৫ বা তার বেশি হয়ে থাকে।

ইঞ্জিনের ভেতরে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণে যখন পিস্টন চাপ দেয়, তখন সেটি স্পার্ক প্লাগের আগুনের আগেই নিজে নিজে জ্বলে উঠতে চায়। যদি জ্বালানি এই অকাল দহন রোধ করতে পারে, তবেই তাকে উচ্চমানের জ্বালানি বলা হয়। আর অকটেন রেটিং যত বেশি হয়, জ্বালানি তত বেশি চাপ সহ্য করতে পারে।

আর পেট্রল ও অকটেন— দুটোই হাইড্রোকার্বনভিত্তিক জ্বালানি। তবে আধুনিক গাড়ি বা হাইপারফরম্যান্স বাইকগুলো একটি নির্দিষ্ট কম্প্রেশন রেশিও বা চাপের পরিমাপ মাথায় রেখে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাই কোনো গাড়ির ম্যানুয়ালে যদি অকটেন ব্যবহারের নির্দেশনা থাকে, তবে সেখানে পেট্রল ব্যবহার না করাই ভালো।

জরুরি প্রয়োজনে পেট্রল যদি নিতেই হয়, তবে খুব সামান্য পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে, যাতে পরবর্তী পাম্প পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু অকটেনের গাড়িতে নিয়মিত পেট্রল ব্যবহার কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

এছাড়া অকটেন অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে জ্বলে। এর বিপরীতে পেট্রল পুরোপুরি না জ্বলার কারণে ইঞ্জিনের ভালভ ও স্পার্ক প্লাগে কার্বনের আস্তরণ জমা হয়। এতে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়। ভুল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের দহনপ্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা ইঞ্জিনকে দ্রুত গরম করে তোলে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে চললে ইঞ্জিন সিজ করার ঝুঁকি থাকে।

উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ি তার স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। তেমনটি ঘটলে অ্যাকসেলেরেটর চাপলেও গাড়ি আগের মতো গতি পাবে না এবং মাইলেজ দ্রুত কমতে থাকবে। 

শুধু অকটেন কিংবা পেট্রল বাছাই করাই শেষ কথা নয়; জ্বালানির মান যেন খাঁটি হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তাই বিশ্বস্ত পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া উচিত। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে কিংবা খামখেয়ালি মতো অকটেনের গাড়িতে পেট্রল ভরে চালালে দীর্ঘমেয়াদি এটি বড় খরচের কারণ হতে পারে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে