এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ডিজিটাল কন্টেন্ট ইকোনমি এখন আর কেবল ভিউ বা সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ফেসবুক বা ইউটিউবের বাইরে অনলাইন ভিত্তিক আয়ের উৎসগুলোকে বৈচিত্র্যময় করা অত্যন্ত জরুরি।
১. 'নিশ' ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ (Niche Brand Partnerships)
মিলিয়ন ভিউ অতীত; ছোট কমিউনিটি ও ‘নিশ’ ব্র্যান্ডিংয়েই মিলছে বড় স্পনসরশিপ! বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন ঢালাও প্রচারণার চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের 'টার্গেটেড অডিয়েন্স' বেশি পছন্দ করে। আপনার যদি সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে (যেমন: বইয়ের রিভিউ, গাছপালার যত্ন বা লোকাল ফুড) ছোট কিন্তু অনুগত দর্শকশ্রেণি থাকে, তবে ব্র্যান্ডগুলো আপনার ওপর বাজি ধরবে।
আন্তর্জাতিক টেক-ক্রিয়েটর এমকেবিএইচডি (MKBHD) শুরুর দিকে খুব ছোট অডিয়েন্স নিয়েও শুধু নিখুঁত গ্যাজেট রিভিউর কারণে বড় ব্র্যান্ড ডিল পেতে শুরু করেন। এক জরিপে দেখা গেছে, ৮২% মানুষ কোনো পণ্য কেনার আগে বড় সেলিব্রিটির চেয়ে তাদের পছন্দের 'মাইক্রো-ইনফ্লুয়েন্সার'দের মতামতকে বেশি বিশ্বাস করেন।
কীভাবে করবেন:
১. যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় (Niche) বেছে নিয়ে নিয়মিত তথ্যবহুল কন্টেন্ট বানান।
২. আপনার ভিডিওর কমেন্ট বা মেসেজের দ্রুত উত্তর দিয়ে দর্শকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ুন।
৩. আপনার ক্যাটাগরির সাথে মেলে এমন স্থানীয় বা নতুন স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে মেইল বা ইনবক্সে আপনার কাজের পোর্টফোলিও এবং দর্শকদের এনগেজমেন্ট রেট (Engagement Rate) দেখিয়ে পিচ (Pitch) করুন।
২. মেম্বারশিপ ও ডিরেক্ট ফ্যান-ফান্ডিং (Direct Fan-Funding)
বিজ্ঞাপনদাতার মর্জির অবসান; সরাসরি ভক্তদের ফান্ডিংয়েই ডানা মেলছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন! প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি আপনার কাজের ভক্তদের আর্থিক সহায়তায় কন্টেন্ট তৈরি করার সংস্কৃতি এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। সাধারণ কন্টেন্ট সবাই ফ্রিতে দেখবে, কিন্তু যারা আপনাকে ভালোবেসে মাসিক ভিত্তিতে ছোট একটি ফি দেবেন, তাদের জন্য থাকবে বিশেষ কিছু রিওয়ার্ড।
বিশ্বখ্যাত শিক্ষণীয় চ্যানেল 'Kurzgesagt' তাদের দর্শকদের দেওয়া প্যাট্রিয়ন (Patreon) অনুদান দিয়ে বড় অ্যানিমেশন টিম চালায়। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ প্রতি মাসে তাদের প্রিয় ক্রিয়েটরদের সরাসরি টাকা দিয়ে সাপোর্ট করেন।
কীভাবে করবেন:
১. Patreon, Buy Me a Coffee বা দেশীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে একটি প্রোফাইল খুলুন।
২. আপনার পেইড মেম্বারদের জন্য এক্সক্লুসিভ অফার ঠিক করুন (যেমন: পর্দার পেছনের ভিডিও, প্রতি সপ্তাহে সরাসরি চ্যাট বা কন্টেন্টে তাদের নাম ক্রেডিট দেওয়া)।
৩. আপনার বিকাশ, নগদ বা কার্ড পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করে ভিডিওর ডেসক্রিপশনে সেই লিংকটি নিয়মিত শেয়ার করুন।
৩. নলেজ মনেটাইজেশন ও মাস্টারক্লাস Selling Digital Goods & Courses
ভিডিও দেখার দিন শেষ, এখন শেখার পালা: দক্ষতা বিক্রি করেই আসছে ‘প্যাসিভ ইনকাম’! আপনার ভিডিওর বিষয়বস্তু যদি শিক্ষণীয় বা তথ্যবহুল হয়, তবে আপনার দক্ষতাকেই একটি ডিজিটাল পণ্যে রূপান্তর করুন। কষ্ট করে একবার একটি ই-বুক বা কোর্স তৈরি করে রাখলে, বছরের পর বছর তা ডাউনলোডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় আসতে থাকে।
ক্রিয়েটর আলী আবদাল (Ali Abdaal) কেবল ইউটিউবিং এবং প্রোডাক্টিভিটি নিয়ে কোর্স বিক্রি করে বছরে মিলিয়ন ডলার আয় করেন। গ্লোবাল ই-লার্নিং মার্কেটের বর্তমান মূল্য প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
কীভাবে করবেন:
১. আপনি যে বিষয়ে দক্ষ (যেমন: ভিডিও এডিটিং, রান্না, ক্যানভা ডিজাইন, বা ইংরেজি শেখানো) তার ওপর একটি ১০ পর্বের সহজ ভিডিও গাইড বা একটি পিডিএফ ই-বুক তৈরি করুন।
২. আন্তর্জাতিকভাবে Udemy, Gumroad বা বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করে কোর্সটি আপলোড করুন।
৩. আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কোর্সের ছোট ছোট প্রোমোশনাল ক্লিপ শেয়ার করে দর্শকদের সেখানে যুক্ত হতে আহ্বান জানান।
৪: স্মার্ট মার্চেন্ডাইজ ও প্রিন্ট অন ডিমান্ড Print on Demand
ইনসাইড জোক থেকে ফ্যাশন ব্র্যান্ড: নিজস্ব ‘মার্চেন্ডাইজ’ বিক্রিতেই বাজিমাত ক্রিয়েটরদের!
আপনার কন্টেন্টের কোনো সিগনেচার সংলাপ (Catchphrase), লোগো কিংবা দর্শকদের ভেতরের কোনো জনপ্রিয় জোককে ফ্যাশনে রূপান্তর করে নিজস্ব টি-শার্ট, হুডি বা কফি মগ বিক্রি করা এখন পানির মতো সহজ।
বিশ্বখ্যাত ক্রিয়েটর মিস্টারবিস্ট (MrBeast) কেবল তার লোগো ও ব্র্যান্ডের মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করেই কোটি কোটি টাকা আয় করেন। গ্লোবাল প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড মার্কেট প্রতি বছর ২৬% হারে বড় হচ্ছে।
কীভাবে করবেন:
১. ক্যানভা বা কোনো ডিজাইনারের সাহায্য নিয়ে আপনার জনপ্রিয় কোনো সংলাপ বা লোগো দিয়ে ২/৩টি টি-শার্ট বা মগের ডিজাইন তৈরি করুন।
২. Teespring, Printify বা দেশের কোনো লোকাল কাস্টমাইজড মার্চেন্ডাইজ মার্চেন্টের সাথে চুক্তি করুন।
৩. "প্রিন্ট অন ডিমান্ড" সার্ভিসের কারণে অর্ডার আসার পর তারা পণ্য তৈরি ও ডেলিভারি করবে; আপনি কোনো অগ্রিম ইনভেস্ট ছাড়াই ঘরে বসে লভ্যাংশ পাবেন।
৫. এফিলিয়েট ইকোসিস্টেম Affiliate Ecosystem
সততাই যেখানে ব্যবসার মূলধন: রিভিউর নিচে লিংকের জাদুতে কোটি টাকার মুনাফা! আপনি যে পণ্য বা সেবা নিজে ব্যবহার করে সত্যি উপকৃত হয়েছেন, সেটির একটি বিশেষ লিংক (Affiliate Link) দর্শকদের সাথে শেয়ার করা। দর্শক যখন আপনার ওপর ভরসা করে ওই লিংক ব্যবহার করে পণ্যটি কিনবেন, আপনি সেই বিক্রির একটি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন।
বিশ্বের বড় বড় গেজেট রিভিউ চ্যানেলগুলোর আয়ের প্রধান উৎস অ্যামাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম। পরিসংখ্যান মতে, ৮০%-এর বেশি ব্র্যান্ড তাদের বিক্রির জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে।
কীভাবে করবেন:
১. Amazon Associates, BDSHOP বা বিভিন্ন লোকাল ই-কমার্স ও হোস্টিং কোম্পানির এফিলিয়েট প্রোগ্রামে ফ্রিতে সাইন-আপ করুন।
২. আপনার ভিডিওতে সেই পণ্যটির সৎ রিভিউ বা ব্যবহার বিধি দেখান।
৩. আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া বিশেষ এফিলিয়েট লিংকটি ভিডিওর ডেসক্রিপশনে বা পিন কমেন্টে দিয়ে দিন এবং দর্শকদের সেখান থেকে কিনতে বলুন।
৬. ফ্রিল্যান্স কনসালটেন্সি ও মিডিয়া সার্ভিস Consulting & Media Services
কেবল নিজের চ্যানেলে কেন? অন্য প্রতিষ্ঠানের ‘সোশ্যাল মিডিয়া গুরু’ হয়ে আয়ের নতুন দিগন্ত!
কন্টেন্ট তৈরি করতে করতে আপনি স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম নিয়ে যে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তা অন্য কোম্পানির কাছে বড় সম্পদ। আপনি ব্যাকস্টেজ মেন্টর বা স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নিতে পারেন।
অনেক অভিজ্ঞ ইউটিউবার এখন বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বা ই-কমার্স ব্রান্ডের পেজ হ্যান্ডেল করে মাসে লাখ টাকা আয় করছেন। বর্তমানে ৯১% কর্পোরেট বিজনেস তাদের প্রচারের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট ব্যবহার করছে, ফলে দক্ষ কনসালট্যান্টদের চাহিদা তুঙ্গে।
কীভাবে করবেন:
১. আপনার নিজের তৈরি সেরা ভিডিও, গ্রাফিক্স বা স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে একটি সুন্দর অনলাইন পোর্টফোলিও বা সিভি তৈরি করুন।
২. LinkedIn বা Facebook-এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানীয় ব্র্যান্ডের মার্কেটিং টিমকে খুঁজে বের করুন।
৩. তাদের বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার ঘাটতিগুলো ধরিয়ে দিয়ে আপনি কীভাবে তা ফিক্স করতে পারেন, তার একটি ফ্রিল্যান্স বা কনসালটেন্সি প্রস্তাব পাঠান।
৭. নিউজলেটার সাবস্ক্রিপশন Premium Paid Newsletters
ইনবক্সেই মিলবে ইনসাইড স্টোরি: সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ‘নিউজলেটার’ প্রযুক্তির নতুন ট্রেন্ড!
সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহলের বাইরে যারা গভীর ও মানসম্মত লেখা পড়তে চান, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক নিউজলেটার তাদের জন্য। গবেষণামূলক আর্টিকেল বা এক্সক্লুসিভ তথ্য সরাসরি পাঠকের ইমেইলে পাঠিয়ে এই আয় করা সম্ভব।
'The Pragmatic Engineer' নামক টেক নিউজলেটারটি চালিয়ে এর ক্রিয়েটর প্রতি বছর লাখ লাখ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি পান। Substack-এর মতো প্ল্যাটফর্মে পেইড রাইটারদের সংখ্যা গত কয়েক বছরে তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কীভাবে করবেন:
১. Substack বা Beehiiv-এর মতো ফ্রি প্ল্যাটফর্মে একটি নিউজলেটার অ্যাকাউন্ট খুলুন।
২. শুরুতে সপ্তাহে ১-২টি দারুণ তথ্যবহুল ফ্রি আর্টিকেল লিখে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ইমেইল সাবস্ক্রাইবার বা রিডার বেস তৈরি করুন।
৩. যখন ভালো পাঠক সংখ্যা তৈরি হবে, তখন 'পেইড সাবস্ক্রিপশন' ফিচার চালু করে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ভেতরের খবরগুলো কেবল পেইড মেম্বারদের ইনবক্সে পাঠানো শুরু করুন।
৮. ইভেন্ট হোস্টিং ও লাইভ ওয়ার্কশপ Paid Live Events
ভার্চুয়াল পর্দা পেরিয়ে সামনাসামনি: ‘টিকিটড ইভেন্ট’ ও লাইভ ওয়ার্কশপেই ক্রিয়েটরদের নতুন আয়!
দর্শকদের সাথে কেবল কমেন্টে কথা না বলে, তাদের জন্য বিশেষ কোনো বিষয়ে লাইভ অনলাইন বা অফলাইন ওয়ার্কশপের আয়োজন করা। দর্শকরা সরাসরি আপনার অভিজ্ঞতার নির্যাস নিতে সানন্দে টিকিট কাটবেন।
বহু ট্রাভেল বা বিজনেস ক্রিয়েটর প্রতি বছর বুটক্যাম্প বা ইন-পারসন মিট-আপের আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যানরা তাদের প্রিয় ক্রিয়েটরের সাথে সরাসরি শেখার সুযোগের জন্য গড়ে ৫০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে দ্বিধা করেন না।
কীভাবে করবেন:
১. আপনার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে একটি ১ বা ২ ঘণ্টার লাইভ ক্লাসের সিলেবাস ঠিক করুন (যেমন: "মোবাইল দিয়ে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি")।
২. Zoom বা Google Meet-এ সেশনটি শিডিউল করুন এবং টিকিট বিক্রির জন্য ‘Eventbrite’ বা দেশীয় কোনো ফর্ম ও পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করুন।
৩. আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০-১৫ দিন আগে থেকে এই মাস্টারক্লাসের ঘোষণা দিয়ে লিমিটেড সিটের জন্য রেজিস্ট্রেশন লিংক শেয়ার করুন।
৯. লাইসেন্সিং ও সিন্ডিকেশন Licensing & Content Syndication
কন্টেন্ট একবার, আয় বারবার: ফুটেজ ও বি-রোল ‘লাইসেন্সিং’ করে আয়ের স্মার্ট কৌশল!
আপনার তৈরি করা ভিডিওর হাই-কোয়ালিটি র ফুটেজ (Raw Footage), চমৎকার কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্যের ড্রোন শট বা বি-রোল (B-roll) অন্যান্য মিডিয়া হাউস, বিজ্ঞাপন সংস্থা বা ছোট ক্রিয়েটরদের কাছে আইনিভাবে বিক্রি বা লাইসেন্সিং করা।
বিশ্বের বড় বড় ট্রাভেল ভ্লগাররা তাদের ধারণ করা দুর্লভ ফুটেজগুলো বিভিন্ন ডকুমেন্টারি মেকারদের কাছে চড়া দামে লাইসেন্স করেন। গ্লোবাল স্টক মিডিয়া মার্কেট বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল শিল্প।
কীভাবে করবেন:
১. আপনার ভিডিওর যে অংশগুলো দেখতে অসাধারণ (যেমন: বৃষ্টি, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, ঢাকার ট্রাফিক বা গ্রামীণ দৃশ্য) সেগুলো আলাদা করে এডিট করে হাই-রেজুলিউশনে সেভ করুন।
২. Shutterstock, Adobe Stock, বা Pond5-এর মতো কন্টেন্ট লাইসেন্সিং ওয়েবসাইটে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে অ্যাকাউন্ট খুলে ফুটেজগুলো আপলোড করুন।
৩. যখনই কোনো ডিজাইনার, নিউজ চ্যানেল বা এজেন্সি আপনার সেই ফুটেজ ডাউনলোড করবে, প্রতিবারই আপনার অ্যাকাউন্টে রয়্যালটি ডলার জমা হবে।
১০. পডকাস্ট অডিও নেটওয়ার্ক Audio Podcasting Networks
দেখার চেয়ে শোনার কদর বাড়ছে: অডিও ‘পডকাস্ট’ স্পনসরশিপে যুক্ত হচ্ছে বড় কর্পোরেট ফান্ড!
জ্যামে বা কাজ করার সময় মানুষ এখন ভিডিও দেখার চেয়ে হেডফোনে পডকাস্ট বা অডিও শো শুনতেই বেশি পছন্দ করে। স্পটিফাই বা অ্যাপল পডকাস্টের মতো প্ল্যাটফর্মে একটি ভালো শো তৈরি করে সেখানে অডিওর মাঝে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ‘ভয়েস ওভার’ স্পনসরশিপের মাধ্যমে বড় অঙ্কের আয় করা সম্ভব।
জো রোগান (Joe Rogan) তার পডকাস্টের জন্য স্পটিফাইয়ের সাথে মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬০% পডকাস্ট শ্রোতা অডিও শো-তে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন শুনলে সেটি কেনার প্রতি বেশি আগ্রহী হন।
কীভাবে করবেন:
১. একটি ভালো মানের মাইক্রোফোন নিয়ে সমসাময়িক বা শিক্ষণীয় কোনো বিষয়ে অডিও রেকর্ড করুন (একলা কথা বলতে পারেন অথবা কোনো গেস্টের ইন্টারভিউ নিতে পারেন)।
২. 'Anchor' (বর্তমানে Spotify for Podcasters) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ফ্রিতে আপনার পডকাস্টটি Spotify, Apple ও Google Podcast-এ এক ক্লিকে ডিস্ট্রিবিউট করুন।
৩. অডিওর শুরু, মাঝখানে বা শেষে স্পনসর ব্র্যান্ডের নাম মুখে উল্লেখ করার (Host-Read Ads) চুক্তি করে লোকাল ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে স্পনসরশিপ মানি আর্ন করুন।