এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : সিগারেটকে বলা হয় মাদকের প্রবেশ দ্বার। ধূমপানের ফলে অন্যান্য মাদক নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ধূমপান তাই বিষপানের মতোই। সিগারেটের ধোঁয়ায় আছে চার হাজারের বেশি রাসায়নিক উপাদান, যার অন্তত ২৫০টিই ক্ষতিকর।
শুধু প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ ধূমপানও বেশ ক্ষতিকর। এটি কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয়ই নয়, বরং এর সঙ্গে অন্যের ঝুঁকিও জড়িত বলে এটি নৈতিক এবং সামাজিক সমস্যা হিসেবেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
এক টানে শরীরে ঢোকে শতশত বিষ
সিগারেটের আগুনে শুধু তামাক পোড়ে না, পুড়তে থাকে শরীরের সুস্থতাও। ধোঁয়ার সঙ্গে ঢোকা হাজারো রাসায়নিক পদার্থ। যা নিঃশব্দে আক্রমণ করে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, রক্তনালি ও শরীরের নানা অঙ্গকে। ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের মতো রোগের পেছনে অনেক সময়ই থাকে এই ছোট্ট অভ্যাসটির দীর্ঘ ছায়া।
তামাকের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল, এর ক্ষতি সব সময় চোখে পড়ে না। অনেকটা নীরব ঘাতকের মতো এটি ধীরে ধীরে শরীরকে দুর্বল করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে মানুষকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
শুধু ধূমপায়ী নন, ঝুঁকিতে আশপাশের সবাই
একজন মানুষ যখন সিগারেটে টান দেন, তখন সেই ধোঁয়ার ভাগীদার হয়ে যান আশপাশের অনেক মানুষ। বাড়ির শিশু, বৃদ্ধ বা গর্ভবতী নারী কারও জন্যই এই ধোঁয়া নিরাপদ নয়। ঘরের কোণে ভেসে থাকা অদৃশ্য ধোঁয়া কখনও কখনও হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের অসুস্থতার কারণ। তামাকের ক্ষতি ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে সামাজিক সমস্যায় রূপ নেয়।
ধোঁয়াবিহীন তামাকও নিরাপদ নয়
অনেকেই মনে করেন জর্দা, গুটখা বা খৈনির মতো ধোঁয়াবিহীন তামাক তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলো মুখগহ্বর, জিভ, মাড়ি, গলা ও খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এটি হতে পারে কোনো ব্যক্তির জন্য মরণফাঁদ।
আধুনিকতার মোড়কে নতুন ফাঁদ
সময় বদলেছে, বদলেছে তামাকের রূপও। ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস বা বিভিন্ন ফ্লেভারযুক্ত নিকোটিন পণ্যকে অনেক সময় আধুনিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মোড়ক বদলালেও ঝুঁকি কমেনি এতটুকুও।