এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : আমরা অনেকেই জীবনকে আরও সুন্দর ও গোছানো করতে বড় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করি। যেমন: এক মাসের মধ্যে ডায়েট পরিবর্তন করে ফেলা কিংবা প্রতি সপ্তাহে একটি করে বই শেষ করা। কিন্তু দেখা যায়, কয়েকদিন পরই সেই অনুপ্রেরণা হারিয়ে যায় এবং আমরা আগের অভ্যাসে ফিরে যাই। মার্কিন থেরাপিস্ট ইসরা নাসির এই বিষয়ে বলেন, মানুষ প্রায়ই অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলে যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় না, ফলে তারা ব্যর্থ হয়। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ‘মাইক্রো-হ্যাবিট’ বা ক্ষুদ্র অভ্যাস।
বিখ্যাত গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে বড় ধরনের ধকল ছাড়াই ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মাইক্রো-হ্যাবিট হলো এমন ছোট কাজ যা করতে খুব সামান্য পরিশ্রম লাগে কিন্তু নিয়মিত করলে এর প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি দেয় এবং অভ্যাসটি ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপনার জীবনকে আরও আনন্দময় ও স্বাস্থ্যকর করতে হাফিংটন পোস্টের পরামর্শ অনুযায়ী এই ৮টি ক্ষুদ্র অভ্যাসের চর্চা শুরু করতে পারেন:
১. প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে একটি দীর্ঘ শ্বাস নিন: অনেক সময় আমরা রাগের মাথায় বা উত্তেজনার বশে এমন কিছু বলে ফেলি বা সিদ্ধান্ত নেই যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। বিশেষজ্ঞ জিনা ক্লিও জানান, যেকোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে মাত্র একটি দীর্ঘ গভীর শ্বাস নিলে তা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।
২. সকালে উঠেই বিছানা গোছান: সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছাতে মাত্র এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগে। এটি একটি অতি ক্ষুদ্র কাজ হলেও এটি আপনার দিনটি একটি শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু করতে সাহায্য করে। থেরাপিস্ট এমা মাহোনি মনে করেন, এটি দিনটি সফলভাবে শুরু করার একটি চমৎকার সংকেত।
৩. প্রতিদিন একটি কৃতজ্ঞতার কথা লিখুন: সারাদিনের শত ব্যস্ততা বা সমস্যার মাঝেও অন্তত একটি ভালো জিনিসের কথা চিন্তা করুন যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। প্রতিদিন সকালে বা রাতে ঘুমানোর আগে একটি ডায়েরিতে সেই বিষয়টি লিখে রাখুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে ইতিবাচক বিষয়ে ফোকাস করতে প্রশিক্ষণ দেয় এবং শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নিঃসরণ করে তৃপ্তির অনুভূতি জাগায়।
৪. প্রতি ঘণ্টায় শরীর একটু স্ট্রেচ করুন: একটানা ডেস্কে বসে কাজ করলে শরীরে স্থবিরতা চলে আসে। প্রতি এক ঘণ্টায় মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য হাত-পা ছড়িয়ে একটু স্ট্রেচ করুন বা পায়ের আঙুল স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
৫. সকালে কিছুটা সময় মুক্ত বাতাস নিন: দিনের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত কিছুক্ষণ বাইরের প্রাকৃতিক বাতাস গায়ে লাগানোর চেষ্টা করুন। এটি হতে পারে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অথবা জানালা খুলে দিয়ে। এটি আপনার দিনটি সতেজভাবে শুরু করতে সাহায্য করে এবং প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
৬. স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার সময় নির্ধারণ করুন: সারাক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশনে ডুবে না থেকে দিনের কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকুন। বিশেষ করে খাবার সময় বা পরিবারের সাথে গল্প করার সময় ফোনটি অন্য ঘরে রেখে দিন। এটি আপনার মানসিক উপস্থিতিকে প্রখর করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
৭. পর্যাপ্ত জল পান করুন: সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত জল পানের বিকল্প নেই। কিন্তু একবারে অনেক জল পানের লক্ষ্য না নিয়ে প্রতিটি খাবারের সাথে অন্তত এক গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। যদি গতকাল আপনি মোটেও জল না খেয়ে থাকেন, তবে আজ অন্তত এক গ্লাস বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৮. ঘুমানোর আগে অন্তত এক পৃষ্ঠা বই পড়ুন: অনেকে মনে করেন বই পড়তে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু হাফপোস্টের পরামর্শ হলো, রাতে ঘুমানোর আগে ফোনের স্ক্রল না করে যেকোনো বই বা ম্যাগাজিনের মাত্র একটি পৃষ্ঠা পড়ুন। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং ফোনের নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন
যেকোনো বড় অভ্যাস তৈরি করতে হলে তাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১০০টি ভাগে ভাগ করে নিন। নিজের প্রতি দয়ালু হোন এবং একবারে খুব বেশি পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না। আপনি আজ ঠিক যতটুকু করতে সক্ষম, ততটুকু দিয়েই শুরু করুন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই একদিন আপনার জীবনকে আরও পরিপূর্ণ ও সুখী করে তুলবে।
তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট