এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ব্যস্ত জীবনে অনেক পুরুষেরই অভ্যাস হলো প্যান্টের পেছনের পকেটে মানিব্যাগ রেখে চলাফেরা করা। টাকা, ব্যাংক কার্ড, পরিচয়পত্রসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসে ভরা মোটা মানিব্যাগ নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে বসে কাজ করা, গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো কিংবা দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে থাকা অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। তবে চিকিৎসকদের মতে, দেখতে সাধারণ মনে হলেও এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অর্থোপেডিক ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেছনের পকেটে মোটা মানিব্যাগ রেখে বসে থাকলে কোমর, মেরুদণ্ড এবং পায়ের স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওয়ালেট নিউরোপ্যাথি (Wallet Neuropathy) বা পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম (Piriformis Syndrome) নামে উল্লেখ করা হয়।
মেরুদণ্ডের ভারসাম্যে প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, পেছনের পকেটে মানিব্যাগ রেখে বসলে শরীরের এক পাশ অন্য পাশের তুলনায় সামান্য উঁচু হয়ে যায়। ফলে নিতম্ব ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থানে পরিবর্তন আসে এবং দীর্ঘ সময় একইভাবে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস বজায় থাকলে কোমরব্যথাসহ বিভিন্ন অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাইয়াটিক স্নায়ুর ওপর চাপ
মানবদেহের সবচেয়ে বড় স্নায়ু হলো সাইয়াটিক নার্ভ, যা কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। পেছনের পকেটে থাকা মোটা মানিব্যাগ দীর্ঘ সময় এই স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে কোমর, নিতম্ব, উরু কিংবা পায়ের নিচ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ঝিনঝিন অনুভূতি বা অবশভাবও দেখা দিতে পারে, যা সাইয়াটিকার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পিরিফর্মিস সিন্ড্রোমের ঝুঁকি
নিতম্বের গভীরে থাকা পিরিফর্মিস পেশির ওপর দীর্ঘ সময় চাপ পড়লে সেটি শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। এই পেশির নিচ দিয়েই সাইয়াটিক স্নায়ু অতিক্রম করে। ফলে পেশিতে প্রদাহ দেখা দিলে স্নায়ুতেও চাপ পড়ে, যার কারণে হাঁটাচলা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার আগে পেছনের পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে রাখা উচিত। একই সঙ্গে কিছুক্ষণ পরপর উঠে হাঁটা, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোটা মানিব্যাগ ব্যবহার না করাও কোমর ও মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।