এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ফল রাখার কথা বললেই তালিকার শীর্ষে যে ফলটির কথা উঠে আসে তা হলো কলা। তবে এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করার কারণে অনেকেই প্রতিদিন কলা খাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি কলা খাওয়া যেমন নিরাপদ, তেমনি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এটি একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী ‘প্রিভেনশন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের অন্যতম উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার এবং ভিটামিন বি-সিক্স রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে ওজন বৃদ্ধি বা রক্তের শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। ফলে দৈনিক ফলের চাহিদা মেটাতে এটি একটি চমৎকার পুষ্টিকর খাবার হতে পারে।
কলা খেলে কি রক্তের শর্করা বা ব্লাড সুগার বাড়ে?
কলায় প্রাকৃতিক শর্করা থাকলেও এতে থাকা ফাইবার বা আঁশ রক্তে শর্করার শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে সাধারণত রক্তের শর্করা হঠাৎ খুব বেশি বাড়ে না।
তবে ডায়াবেটিস রোগী বা যারা রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তারা কলার সঙ্গে প্রোটিন বা হেলদি ফ্যাটের সংমিশ্রণ (যেমন: দই কিংবা এক মুঠো বাদাম) যোগ করে খেতে পারেন। এতে খাবার হজম হতে সময় লাগে এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অতিরিক্ত কলা খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মানুষের জন্য দিনে একটি কলা খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত কলা খেলে কলার উচ্চ ফাইবারের কারণে কারো কারো হজমে সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া, কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম সঠিকভাবে বের হতে পারে না। তাই এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে কলা বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শতভাগ পেতে কেবল কলার ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য রেখে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।