এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে হাজার বছর ধরে সোনা কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয় বরং আভিজাত্য, নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি কিংবা ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সোনা সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
অন্যদিকে ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সোনার গহনার চাহিদা বরাবরই আকাশচুম্বী। তবে বর্তমানে বিশ্ববাজারে সোনার রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিবর্তনের ফলে এই চাহিদার সমীকরণে এক বড় ধরনের রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বড় বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য সোনা মজুত করছে, অন্যদিকে উচ্চদামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অলঙ্কার হিসেবে সোনার গহনা কেনার অভ্যাসে নানামুখী পরিবর্তন আসছে।
এখন সোনা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবচেয়ে বড় যে দ্বন্দ্বটির মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো- ২২ না ১৮ ক্যারেট, কোনটি কেনা বেশি লাভজনক? ক্যারেটের পার্থক্যের ওপরই নির্ভর করে সোনা খাঁটি কি না।
২২ ক্যারেট সোনা: ৯১.৬৭% বিশুদ্ধ, গহনার জন্য আদর্শ। এটি স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। দাম বেশি, তবে মূল্য ধরে রাখে।
১৮ ক্যারেট সোনা: ৭৫% বিশুদ্ধ, দৈনন্দিন ব্যবহারের গহনার জন্য উপযুক্ত। এটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং মজবুত।
আপনি যদি বিনিয়োগের জন্য সোনা কিনতে চান, তাহলে ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনা বা সোনার বার বেছে নিন। দৈনন্দিন গহনার জন্য ১৮ ক্যারেট ভালো।
সোনায় বিনিয়োগের সুবিধা
সোনা বাংলাদেশে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। এর দাম দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় মূল্য ধরে রাখে।
২২ ক্যারেট সোনায় বিনিয়োগের সুবিধা
সোনার দাম গত কয়েক বছরে ক্রমাগত বেড়েছে
সোনা সহজেই নগদ টাকায় কনভার্ট করা যায়
বাংলাদেশে সোনা গহনা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি সঞ্চয়ের মাধ্যম।
কীভাবে সোনা কিনবেন
বাজুস-অনুমোদিত দোকান: সবসময় বিশ্বস্ত জুয়েলার্স, যেমন বাজুস-অনুমোদিত দোকান থেকে কিনুন।
হলমার্ক চেক করুন: ৯১৬ কোড এবং বিআইএস (BIS) লোগো আছে কি না দেখুন।
দাম তুলনা করুন: একাধিক দোকানে দাম জেনে নিন।
রসিদ সংরক্ষণ: ক্রয়ের রসিদ বা ইনভয়েস ভবিষ্যতের জন্য রাখুন।
সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন