এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আদেশ অমান্য করে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। সেই গৃহবধূ বিবি জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জহুরা, তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
এসময় বিপ্লব জানান, বিএনপি জহুরার বিপদে পাশে আছে। তার সংসার পুনঃস্থাপন, পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণপোষণেও বিএনপি পাশে থাকবে।
আর ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুস ছাত্তার জানান, জহুরাকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার জহুরাকে তালাক দেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। ঘটনার পর জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেলেও শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে আসেন কাওসার।
এ সময় স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানান, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ফের সংসার করতে চান। যদিও ঘটনার পর থেকে জহুরা তার শাশুড়ি ও তিন সন্তান নিয়ে শ্বশুরের ঘরেই অবস্থান করছেন।
এদিকে জহুরা জানান, জীবনের প্রথম ভোট, তাও আবার ধানের শীষে প্রয়োগ করেন। এ কারণে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেওয়া হয়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের মাধ্যমে কাওসারের সংসারেই আমৃত্যু কাটাতে চান।
আর কাওসারের মা শরীফা খাতুন জানান, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে। কাওসারকে ঘরে ফিরতে হলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই বসবাস করতে হবে। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে কাওসারকে আর বাবার ঘরে জায়গা দেওয়া হবে না।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কাওসারের। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ।