এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ফরিদপুরের মধুখালীতে রত্না বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ইয়াছিন শেখের বিরুদ্ধে। ইয়াছিন শেখের পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোতেই স্ত্রী রত্না বেগমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রত্নার পরিবারের।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছকরিকান্দি গ্রামে ইয়াছিনের বাড়ি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে ইয়াছিন শেখ।
জানা যায়, মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মনকান্দা গ্রামের মাজেদ শেখের ছোট মেয়ে রত্না বেগমের (২০) সঙ্গে চার বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ছকরিকান্দি গ্রামের মৃত কালাম শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখের (২৩)। বিয়ের পর থেকেই রত্না বেগম জানতে পারে তার স্বামীর সঙ্গে একটি মেয়ের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রত্না বেগম ও ইয়াছিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। ইয়াছিন ট্রাক চালক হওয়ায় মাসের বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। বিয়ের বয়স চার বছর হলেও ছিল না কোনো সন্তানাদি।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাতে ইয়াছিন বাড়িতে আসলে রত্নার সঙ্গে ইয়াছিনের কথা কাটাকাটি হয়, একপর্যায়ে রত্নাকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান ইয়াছিন এমন অভিযোগ রত্নার পরিবারের। রত্নার হত্যার বিচার দাবি স্বজনদের।
নিহত রত্নার মা জরিনা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইয়াছিন। একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল ইয়াছিনের। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই ওদের মধ্যে ঝামেলা হতো। আমি মেয়েকে বলেছিলাম তোর সংসার করার দরকার নেই, তুই চলে আয়। মেয়ে আমার কথা শোনেনি। গতকাল রাতে ইয়াছিন বাড়িতে আসে এরপর ওদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ইয়াছিন পালিয়ে যায়। মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
নিহতের বোন রুবিয়া বেগম বলেন, ইয়াছিনের পরকীয়া ছিল, বিষয়টি জানতে পারে আমার বোন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই ওদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। একদিন ভিডিও কলে ধরেও ফেলে এরপর আমার বোনকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করত। আমার বোন পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করেছে ইয়াছিন। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে পারি। শুনেছি গতকাল রাতে ইয়াছিন বাড়িতে এসেছিল, এরপরই এমন ঘটনা ঘটেছে। রত্নার পরিবারের দাবি রত্নাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ইয়াছিন পলাতক রয়েছে।
মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।