শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ০৮:১৬:০১

‘সবাইকে মেরে ফেলেছি, আমাকে আর তোরা পাবি না’

‘সবাইকে মেরে ফেলেছি, আমাকে আর তোরা পাবি না’

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের পাঁচ খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক আছেন।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।

শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কয়েকজন গিয়ে দেখতে পায়, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় যান।

তিনি দাবি করেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।

ইভা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।

এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ৬টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে