মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ১০ তথ্য

০৫:৫১:১২ রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০

সর্বশেষ সংবাদ :

     • তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিইউতে সঞ্জয় দত্ত     • ফেসবুক বান্ধবীর সঙ্গে করোনা নিয়ে চ্যাট করে ব্যবসায়ী খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!     • উত্তপ্ত লেবাননে পদত্যাগ করলেন চার সংসদ সদস্য     • শ্রীলঙ্কার সংসদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন     • ভারত সীমান্তে চীনের ১৫ হাজার সেনা, বৈঠকে নয়া দিল্লী     • লেবাননের বৈরুত বন্দর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করবে তুরস্ক     • সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে: র‌্যাব     • রাম মন্দিরের বিরোধিতা করে যা বললেন অভিনেতা দেব     • হাসপাতালের থেকে ভারতে মন্দিরের বেশি প্রয়োজন : বিজেপির সভাপতি     • বিদ্যালয়ের নাম বলতে ল'জ্জা পায় শিক্ষার্থীরা, পরিবর্তনের দাবি

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ০৯:২৩:৪৫

মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ১০ তথ্য

মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ১০ তথ্য

মুফতি সাআদ আহমাদ : মহান আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্লেষণ নিঃসন্দেহে একটি বড় ইবাদত। পবিত্র কোরআনে মানুষকে তার নিজের সৃষ্টি ও আশপাশের সৃষ্টিজগতের প্রতি অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর পবিত্র কোরআন এ জন্য অদ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য উৎস। চলুন দেখি মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে মহাকাশবিষয়ক কী কী বিস্ময়কর তথ্য রয়েছে।

মহাকাশ কক্ষপথবিশিষ্ট
পবিত্র কোরআনের ভাষায় এর আলোচনা এসেছে সুরা জারিয়াতের ৭ নম্বর আয়াতে ‘জাতুল হুবুক’ তথা রাস্তা বা পথবিশিষ্ট শব্দে। মহাকাশের ছোট-বড় গ্রহ-উপগ্রহগুলো প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণমান। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সূর্য তার নির্ধারিত পথে ছুটে চলে। চাঁদেরও রয়েছে নির্ধারিত কক্ষপথ।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৩৮, ৩৯)

মহাকাশ তারকাবেষ্টিত
মহাকাশবেষ্টিত তারকাগুলো প্রধানত দুই ধরনের। রাতের ঝলমলে আকাশে আমরা যেগুলো মিটমিট করে জ্বলতে দেখি কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘কাউকাব’ তথা স্টার শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ছাড়া মহাকাশে একধরনের বৃহৎ আকৃতির তারকা রয়েছে, যেগুলো স্বয়ং বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ ও তারকার সমষ্টি। কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘বুরুজ’ তথা গ্যালাক্সি শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম প্রকারের বিবরণে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি দুনিয়ার আকাশ অসংখ্য তারকারাজির দ্বারা সুসজ্জিত করেছি। (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৬)

দ্বিতীয় প্রকার প্রসঙ্গে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি স্থাপন করেছেন যাতে সূর্য ও আলোকোজ্জ্বল চন্দ্রও স্থাপন করেছি। (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬১)

বহুরূপী মহাকাশ
আকাশের রং কী? নীল আকাশ বলে মানুষের মুখে পরিচিত হলেও বাস্তবে আকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো রং নেই। বায়ুমণ্ডলের ক্ষুদ্র অণুগুলো দৃষ্টিসীমার প্রান্তে নীল হয়ে দেখা দেয়। অবস্থাভেদে আকাশ বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে। আবার রংধনুর মেলায় একই সঙ্গে সাত রঙেও সেজে ওঠে। আকাশের এই বহুরূপী সজ্জার বর্ণনা পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে। ‘কসম ওই আকাশের, যা বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। (সুরা : তারিক, আয়াত : ১১)

মহাকাশ সপ্তস্তরে বিন্যস্ত
সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞান মহাকাশের সাতটি স্তর আবিষ্কার করেছে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে এ রকম—১. ট্রাপোস্ফিয়ার। ২. স্ট্রাটোস্ফিয়ার। ৩. ওজনোস্ফিয়ার। ৪. মেসোস্ফিয়ার। ৫. থার্মোস্ফিয়ার। ৬. আয়নোস্ফিয়ার। ৭. এক্সোস্ফিয়ার।

অথচ পবিত্র কোরআনে এক হাজার ৫০০ বছর আগেই একাধিক আয়াতে এ তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সুরা মুমিনুনের ১৮ নম্বর আয়াতে ‘সাবআ তরাইক’ শব্দে, সুরা মুলকের তিন নম্বর আয়াতে ‘তিবাকা’ শব্দে এবং সুরা নাবার ১২ নম্বর আয়াতে ‘সিদাদা’ শব্দে মহাকাশের সপ্তস্তরের বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে।

ক্রমবিস্তৃত মহাকাশ
সাম্প্রতিক সময়ে সর্ববৃহৎ মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসা এ তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যে ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং মহাকাশের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃতি লাভ করছে। চাঞ্চল্যকর এ তথ্যে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছিল। কিন্তু আজ থেকে এক হাজার ৫০০ বছর আগে মরুভূমির বালুতে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন থেকে এ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন মুহাম্মাদে আরাবি (সা.)। মহান আল্লাহ বলছেন, আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি এবং আমিই এর বিস্তৃতি ঘটাই। (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৪৭)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমশ সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)

খুঁটিহীন আসমান
যেখানে শূন্যের ওপর এক টুকরা টিস্যু পেপারের অস্তিত্বও কল্পনা করা যায় না। সেখানে এত বিশাল মহাকাশ মহাশূন্যের মাঝে কিভাবে ভাসমান থাকতে পারে? জবাব আল্লাহ তাআলা নিজেই দিচ্ছেন, ‘তার নিদর্শনাবলি থেকে এটাও একটি যে আসমান-জমিন কেবলমাত্র তাঁর আদেশের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। (সুরা : রোম, আয়াত : ২৫)। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত আসমান আমি খুঁটিবিহীন ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করেছি, যা তোমরা দেখছ।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১০)

মহাকাশ দরজাবিশিষ্ট
পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু আয়াত পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি সহজে অনুধাবন করা সম্ভব হবে। সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, আমি সুদৃঢ় ছাদরূপে আসমান সৃষ্টি করেছি। আর আকাশের এপার-ওপার সংযোগের জন্য রয়েছে দরজা। কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা অহংকারবশত আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজা উন্মোচিত হবে না। আবার এসব দরজায় রয়েছে শক্ত পাহারার ব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহান আল্লাহ, যিনি মাত্র দুই দিনে মহাকাশে সপ্তস্তর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছেন। প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম বিন্যস্ত করেছেন। এবং পৃথিবীর আকাশ অসংখ্য আলোকবাতি দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন এবং সুদৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।’ (সুরা : ফুসিসলাত, আয়াত : ১২)

ধোঁয়াশাঘেরা মহাকাশ
প্রথমবারের মতো আমেরিকান মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসা এ তথ্য সরবরাহ করেছিল যে মহাশূন্য খুব গভীর ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। খুব সকালে সূর্যের রশ্মি ও রাতে তারার আলোতে যে বিচ্ছুরণ সৃষ্টি হয় তা মূলত এই ধোঁয়াশার কারণেই হয়। যেমন—কুয়াশাঘেরা পরিবেশে বাতির আলো ভিন্ন ধরনের রশ্মি বিচ্ছুরণ সৃষ্টি করে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠ নির্মাণের কাজ সমাধার পর তিনি আকাশ নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ করলেন আর তখন তা ছিল ধোঁয়াশাঘেরা।’ (সুরা : ফুসিসলাত, আয়াত : ১১)

মহাকাশের বাসিন্দা
ভূপৃষ্ঠের এই ক্ষুদ্র পরিধিতে কয়টা জীব-জানোয়ারই বা বসবাস করে। অথচ এই বিশাল আকাশজুড়ে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টি জীব রয়েছে। যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে সিজদা করে এবং তাঁর গুণগানে মগ্ন। যাদের সংখ্যা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম তা শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ৮)

সব শেষে মহাকাশ
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন যে একমাত্র তাঁর পবিত্র সত্তা ছাড়া মহাবিশ্বের সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিন্দু থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ বিস্তৃত মহাবিশ্ব আবার শুরুতে ফিরে আসবে। আর সাত আসমান বইপত্র গোটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪)

লেখক : শিক্ষক, ইমদাদুল উলুম রশিদিয়া মাদরাসা, ফুলবাড়ীগেট, খুলনা।



খেলাধুলার সকল খবর »

ইসলাম


যে দুই কাজের কারণে বান্দার কোনো দোয়াই আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না

যে-দুই-কাজের-কারণে-বান্দার-কোনো-দোয়াই-আল্লাহ-তাআলা-কবুল-করেন-না

অভাবীকে সাহায্য করলেই আল্লাহর সাহায্য মিলবে

অভাবীকে-সাহায্য-করলেই-আল্লাহর-সাহায্য-মিলবে

সূরা ফাতেহা সব রোগের মহাওষুধ

সূরা-ফাতেহা-সব-রোগের-মহাওষুধ ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


৩৩ বার ম্যাট্রিকে ফেল করেও হাল ছাড়েননি নুরউদ্দিন, অবশেষে লকডাউনে ভাগ্য খুললো

৩৩-বার-ম্যাট্রিকে-ফেল-করেও-হাল-ছাড়েননি-নুরউদ্দিন-অবশেষে-লকডাউনে-ভাগ্য-খুললো

করোনার মূল উপসর্গ নিয়ে গোড়াতেই বড় ভুল হয়ে গেছে: দাবি বিশেষজ্ঞদের

করোনার-মূল-উপসর্গ-নিয়ে-গোড়াতেই-বড়-ভুল-হয়ে-গেছে-দাবি-বিশেষজ্ঞদের

একটি পাখির বাসা বাঁ'চাতেই টানা ৩৫ দিন অন্ধকারে গ্রাম

একটি-পাখির-বাসা-বাঁ-চাতেই-টানা-৩৫-দিন-অন্ধকারে-গ্রাম এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


২০২০ স্থগিতের পর ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে হবে : আইসিসি

মাত্র পাওয়া- ক্রিকেট ম্যাচে এলোপাতাড়ি গু'লি

প্রকা'শ্যে রাস্তায় স্ত্রীর গ'লা কে'টে মু'ণ্ডু নিয়ে থানায় হা'জির যুবক!

''কুকুরের বে'ল্ট দিয়েই শ্বা'সরো'ধ করে সুশান্তকে খু'ন করা হয়েছে, গলায় সেই দা'গ স্প'ষ্ট!''

বিচিত্র জগৎ


গত ২০ বছর ধরে হেলমেট পরে আছেন এই নারী!

গত-২০-বছর-ধরে-হেলমেট-পরে-আছেন-এই-নারী-

এই নারীর কাহিনি চমকে দেওয়ার মতো, রাস্তায় ছোলা বিক্রি করে কোটিপতি!

এই-নারীর-কাহিনি-চমকে-দেওয়ার-মতো-রাস্তায়-ছোলা-বিক্রি-করে-কোটিপতি-

পৃথিবীর যে রহস্যের কোনও সমাধানই করা গেল না আজ পর্যন্ত, যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানও দিতে পারেনি!

পৃথিবীর-যে-রহস্যের-কোনও-সমাধানই-করা-গেল-না-আজ-পর্যন্ত-যার-ব্যাখ্যা-বিজ্ঞানও-দিতে-পারেনি- বিচিত্র জগতের সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ