সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৫, ০৪:৩৭:০৫

দশম সংসদে বিএনপির সমালোচনা ৭ হাজার ২৬৮ বার!

দশম সংসদে বিএনপির সমালোচনা ৭ হাজার ২৬৮ বার!

ঢাকা : ভোট বর্জনের পর জাতীয় সংসদে নেই বিএনপি, তবে তাদের কথাই দশম সংসদে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার বার হয়েছে বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। আর এই কথার পুরোটাই ছিল সমালোচনা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দশম সংসদের গত এক বছরে বিএনপির সমালোচনা হয়েছে ৭ হাজার ২৬৮ বার। প্রতিবেদন প্রকাশ করে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সংসদ সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে কথিত বিরোধী দলের লেজুড়বৃত্তির সংস্কৃতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারবিরোধীদের সমালোচনার পাশাপাশি নিজ দল ও সরকারের প্রশংসা দশম সংসদে ৭ হাজার ৫০০ বার হয়েছে বলে টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। টিআইবির পরিসংখ্যান বলছে, অষ্টম সংসদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা হয়েছিল ৪৯১ বার। নবম সংসদে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দল বিএনপির সমালোচনা করেছিল ৮০৪ বার। আগের সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনে প্রশংসার ধারা বিশ্লেষণে দেখা যায়, অষ্টম সংসদে সরকারি দলের প্রশংসা হয়েছিল ৬২৬ বার, নবম সংসদে হয়েছিল ৫৯৯ বার। দশম সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করে বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। এ উপলক্ষে সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত দশম সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সরকারেও অংশ নিয়েছে, যার সমালোচনাও করে আসছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দশম সংসদে এই পর্যন্ত আইন প্রণয়নে মোট কার্যদিবসের ৬ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। এতে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ৩৫০ সংসদ সদস্যের ২৮ জন। পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সংসদে দৈনিক গড়ে ২৬ মিনিট হিসেবে কোরাম সঙ্কটের কারণে মোট সময় নষ্ট হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। যার অনুমিত অর্থমূল্য প্রায় ৩২ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। গবেষণার মূল প্রতিবেদনের সারাংশ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ ও মোরশেদা আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপ-নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। সংসদের ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের অগাস্ট (দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশন) পর্যন্ত কার্যক্রম নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এই সময়ে সংসদ নেতার উপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের ৮৩ শতাংশ এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি ছিল ৫৭ শতাংশ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগের সংসদগুলোতেও উপস্থিতিতে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে এগিয়ে ছিলেন। টিআইবি বলেছে, দশম সংসদে অধিবেশনে গড় কোরাম সঙ্কট তুলনামূলকভাবে কমার মতো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সংসদের প্রত্যাশিত কার্যকরিতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর থেকে কথিত প্রধান বিরোধী দল সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রত্যাশিত জোরালো ভূমিকার ঘাটতি এবং অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা য়ায়। সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা, বিভিন্ন কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান ও অনুরোধ ছাড়া জোরালো সমালোচনা করে প্রধান বিরোধী দলকে প্রত্যাশিত অবস্থান নিতে দেখা যায়নি বলে টিআইবির পর্যবেক্ষণ। সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলকে সম্মিলিত সুরে আক্রমণাত্মক সমালোচনায় লিপ্ত হতে দেখা যায়, বলছে সংস্থাটি। অসংসদীয় আচরণ এবং ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারকে অধিকতর শক্তিশালী ভূমিকা পালন করার সুপারিশ করেছে টিআইবি। সংসদকে কার্যকর করতে আরও ১২টি সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২৬ অক্টোবর, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/এস.এ.সুমন/একে

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে