আমি নুসরাতের মা বলছি : রাশেদা রওনক

১১:৩৫:০১ রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯


রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯, ০৭:২৬:৪৪

আমি নুসরাতের মা বলছি : রাশেদা রওনক

আমি নুসরাতের মা বলছি : রাশেদা রওনক

রাশেদা রওনক খান : আজ পহেলা বৈশাখে নতুন আলোয় সেজে উঠবে বাংলাদেশ! প্রস্তুতি শেষ, এবার উদযাপনের পালা। এবার বাড়তি পাওনা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন। 

আপনারাও উদযাপনের জন্য তৈরি বর্ণিল সাজসজ্জায়; পত্রিকার পাতাগুলো সাজবে নতুন সাজে; নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে প্রতি ঘণ্টায় নিউজ রিডাররা তাদের চ্যানেলগুলোতে; প্রতিটি চ্যানেল প্রতিযোগিতায় নামবে কে কত সেলিব্রিটি এনে সুন্দর প্রোগ্রাম বানাতে পারে; বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো তৈরি নতুন বছরে নতুন বিজ্ঞাপন বাজারে ছাড়তে; দোকানগুলো আগের রাতে ধুয়েমুছে পরিস্কার করা হচ্ছে। 

হালখাতা খুলতে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা, নতুন বউ বায়না ধরেছে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য; হাতে-পায়ে আলতা আর মেহেদি দিয়ে তৈরি কিশোরীর দল; মেলায় নাগরদোলায় চড়ে বেড়াবে শিশুদের দল; চারদিকে চলবে অজস্র মানুষের কোলাহল; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবরের মতো বলবে- নিরাপত্তাবেষ্টিত থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সেই বর্ণিল যাত্রায় শামিল হবে তোমরা সবাই নানা রঙের পোশাক, মুখোশ আর ফানুস নিয়ে! বস্তিতে প্রতিদিনের পান্তা-ভর্তাই বৈশাখের মেন্যু। 

ধনীর বাড়িতে আলাদা করে গরম ভাতে পানি ঢেলে বড় দামি ইলিশের মেন্যু আর মধ্যবিত্তের দুটির সমন্বয় ঘটিয়ে বৈশাখ উদযাপনের চেষ্টা...ঘরে ঘরে ইলিশ; না হয় অন্য কোনো মাছ রান্না করবে মায়েরা... মা রান্না করে বসে থাকে কখন ছেলেমেয়ে সেজেগুজে মেলা থেকে ফিরে তার হাতে রান্না খাবে! 

আপনারা, আপনাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র যখন এই বর্ণিল বৈশাখ উদযাপনে মত্ত, তখন কী করছে আমার মতো নুসরাত, তনু, রূপা, তানহা, আফসানার দুঃখিনী মায়েরা? আমাদেরও তো বড় সাধ জাগে কলিজার ধন মেয়েকে বুকে টেনে ধরতে। আমরা কী করব এই দিনে? দেশবাসী, আমাদের জীবনের বৈশাখী আনন্দ কেড়ে নিল যারা, তাদের সঙ্গেই তো আজ আপনারা বৈশাখের আনন্দে মত্ত হয়েছেন। 

তারাও আছে আপনাদের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। তারাও আপনাদের সঙ্গে ফানুস ওড়াচ্ছে। নয়তো বৈশাখীর আনন্দ মিছিলে নারীর শ্নীলতাহানির চেষ্টা চলে কীভাবে? কীভাবে আমাদের মেয়েদের মতো সেদিন অনেকেই নিপীড়িত হয়? কেন এই আনন্দ আয়োজনে প্রতিবার র‌্যাব-পুলিশকে বলতে হয়- নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে? কেন আমাদের মাঝেই আমরা নিরাপদ নই? 

কেন আমার কিংবা আমাদের মেয়েরা হারিয়ে গেল এই নষ্টদের হাতে কষ্ট পেয়ে? এত কিছুর পরেও আপনারা আবার যাচ্ছেন আনন্দ মিছিলে; আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিকড়ের সন্ধানে! বাঙালির প্রাণের উৎসব এই বাংলায়, এর চেয়ে বড় উৎসব আর কী হতে পারে যেখানে শ্রেণি, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে যায়? কিন্তু আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- সবাই কি এক হয়? 

এই সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কিড় আমাদের এক ভাবাতে শেখায়? একই যদি হতো, একই যদি ভাবত, তবে আজ কেন আমি সন্তানহারা এক দুঃখিনী মা? এত আনন্দের মাঝে কেন আজ আমার বা আমাদের ঘরে বৈশাখের আনন্দ নেই? কেন আমার বা আমাদের মেয়েরা হারিয়ে গেল এভাবে? কেন তাদের হত্যাকাণ্ড কিংবা ধর্ষণের বিচার হয় না? কেন এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার এত দীর্ঘসূত্রতা দেখতে হয়? 

কেন এখানে টাকার খেলা চলে? কীভাবে এখানে ধর্ষক, খুনি, নিপীড়ক হয়ে ওঠে ক্ষমতাশালী আর আমরা হয়ে যাই নিরীহ প্রাণী, যার ওপর প্রতি মুহূর্তে চলে মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি? কীভাবে এই হায়েনারা এখনও আমাদের প্রতি মুহূর্তে হেনস্তা করে? রাষ্ট্র কি সেই খবর রাখে? 

কীভাবে আমি বা আমরা প্রতিদিন বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে দিন কাটাই, সে না হয় না-ই জানলেন আপনারা। কিন্তু কন্যা হত্যার বিচারটুকুও আপনারা আমাদের দেখতে দেবেন না? আহারে মা আমার! কত কষ্ট পেয়েছে, মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করেছে... যেই জানোয়ারদের অত্যাচার সহ্য করে চলে গেছে, সেই জানোয়ারগুলোর ক্ষমতার দাপট দিন দিন বাড়তেই থাকে!

বিচার পাই না আমরা। আদালতের প্রতিটি সিঁড়ি আমাদের চোখের জলে ভিজেছে অথচ আপনাদের ভাবায় না, কষ্টও দেয় না? কখনও কি নিজেকে আমার বা আমাদের জায়গায় রেখে ভেবেছেন আপনারা? আপনারা কি দেখতে পান আমাদের চোখের কান্নায় আর পানি নেই? 

শুকিয়ে গেছে আমাদের এই চোখ দুটি? এই আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সমাজ পরিচালনা করছেন, ডাক্তারি বিদ্যা নিয়ে রোগীদের বাঁচিয়ে তুলছেন, বুয়েটে পড়ালেখা করে বড় বড় ইমারত তৈরি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে শিক্ষক হচ্ছেন কিংবা আমলা হচ্ছেন, রাজনীতি করছেন, নাটক-সিনেমা বানাচ্ছেন, বড় বড় ব্যবসায়ী হচ্ছেন, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জাপান কিংবা আমেরিকার কোনো ল্যাবে বসে রসায়ন, পদার্থ কিংবা অঙ্কশাস্ত্রের কঠিন সূত্র মেলাচ্ছেন, প্রবাসীরা নিজেদের জীবন সুখ-শান্তিতে কাটিয়ে দিচ্ছেন। 

কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে এই দুঃখিনী মায়েদের দুঃখ কি একটুকুও আপনাদের ছোঁয় না? আপনারা কি কখনও কোনোদিন জানতে চেয়েছেন- বেঁচে থেকেও মৃত আমি, আমরা কীভাবে দিন কাটাই? এই রাষ্ট্র কি কোনোদিন খবর নেয় আমাদের প্রতিটা দিন কীভাবে কত নতুন নতুন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যায়? এত সংগঠন- কে কবে আমার, আমাদের কাছে এসেছে দুঃখের কথা শুনতে? 

এত চ্যানেল, পত্রপত্রিকা কেউ কি আমার বা আমাদের কোনো খোঁজ নেয়- আমরা সন্তানহারা মায়েরা কেমন আছি, কীভাবে কাটাই এই দিনগুলো? আমাদের কলিজার ধনকে মাটির নিচে রেখে- কেউ কি এসবের খোঁজ নিতে আসে? না-ইবা আসুক, দরকার নেই আপনাদের সান্ত্বনা, যা দরকার আমাদের কন্যা হত্যার বিচার! 

সেটাও আপনারা আমাদের দেবেন না? তাহলে কী লাভ এত পড়ালেখার? কী লাভ এই রসায়ন কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের ল্যাবে বসে গবেষণার? কী লাভ এই জজ-ব্যারিস্টার হয়ে? কী লাভ এত বড় রাজনীতিবিদ হয়ে, যদি নিজ দেশের দুঃখিনী মায়েদের একটা বিচার করে দিতে না পারেন? অন্তত বিচার চেয়ে পাশে দাঁড়াতে না পারেন? 

আমি জানি, আপনারা আপনাদের নিজের জীবন, সন্তানের জীবন কিংবা বৈশাখের এই সামাজিক জীবনের আনন্দ মিছিলকেই প্রাণবন্ত করার চেষ্টায় মত্ত, আমার দীর্ঘশ্বাস আপনাদের ভাবায় না, কাঁদায় না...আমি জানি, স্বার্থপরের দুনিয়ায়, এই আমি একলাই কাঁদব, এই সমাজ অতি স্বার্থপর...দু'দিন চিৎকার করে পরদিন ভুলে যাই আমাদের নুসরাত, তনু, আফসানা, পূজা, রিসা, তানহা, রূপাদের। আহারে! 

আপনাদের মতো যদি স্বার্থপর হতে পারতাম, ভুলে যেতে পারতাম! নাড়িছেঁড়া ধন আমার, পাশে নেই; শুয়ে আছে মাটির নিচে কত কষ্ট, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, নিপীড়নকে সঙ্গে নিয়ে- সেই বেদনা আপনাদের ছুঁয়ে না যাক, অন্তত আমাদেরকে আমাদের কন্যা হত্যার বিচার পেতে সাহায্য করুন আপনারা! এইটুকু চাওয়া রইল আজকের দিনে আপনার কাছে, আপনাদের কাছে। সমকাল

শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



খেলাধুলার সকল খবর »

ইসলাম


জান্নাত লাভের ছোট্ট একটি গুণ হলো প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা

জান্নাত-লাভের-ছোট্ট-একটি-গুণ-হলো-প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে-সর্বাবস্থায়-আল্লাহ-তাআলাকে-ভয়-করা

পবিত্র কাবা দেখে আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি: অকল্যান্ডের প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা

পবিত্র-কাবা-দেখে-আমি-সত্যিই-আবেগাপ্লুত-হয়ে-পড়েছি-অকল্যান্ডের-প্রধান-পুলিশ-কর্মকর্তা

কোরবানির গোশত তিন দিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া যাবে কি?

কোরবানির-গোশত-তিন-দিনেরও-অধিক-জমিয়ে-রেখে-খাওয়া-যাবে-কি- ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


৭১টি ভেড়ার বিনিময়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী!

৭১টি-ভেড়ার-বিনিময়ে-স্ত্রীকে-প্রেমিকের-হাতে-তুলে-দিলেন-স্বামী-

যেভাবে ফুটপাতের শিশু থেকে ফোর্বসের তালিকায় স্থান করে নিলেন এই তরুণ উদ্যোক্তা

যেভাবে-ফুটপাতের-শিশু-থেকে-ফোর্বসের-তালিকায়-স্থান-করে-নিলেন-এই-তরুণ-উদ্যোক্তা

মধ্যবিত্তদের জন্য কম দামে বাইক নিয়ে এলো বাজাজ পালসার

মধ্যবিত্তদের-জন্য-কম-দামে-বাইক-নিয়ে-এলো-বাজাজ-পালসার এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


পাখির খাঁচার মধ্যে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র, প্রধানমন্ত্রীকে কারণ ব্যাখ্যা করেন সাব্বির

বিনা যুদ্ধেই ভারত হারাচ্ছে যুদ্ধবিমান, নিহ'ত হচ্ছেন পাইলটরা

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৪ সদস্যের মূল স্কোয়াড এবং তিনজন খেলোয়াড়কে স্ট্যান্ডবাই রেখেছে বিসিবি

ক্রিকেটে আগে কেউ কখনও এমন ঘটনা দেখেনি

পাঠকই লেখক


ডিম ভেবে পাথরে তা দিচ্ছে পেঙ্গুইন জুটি, অতঃপর যা ঘটলো..

ডিম-ভেবে-পাথরে-তা-দিচ্ছে-পেঙ্গুইন-জুটি-অতঃপর-যা-ঘটলো

পছন্দের সিট না পেয়ে রেগে গিয়ে বিমানবালার মুখে গরম পানি!

পছন্দের-সিট-না-পেয়ে-রেগে-গিয়ে-বিমানবালার-মুখে-গরম-পানি-

দুটি সিদ্ধ ডিমের দাম ২০০৪ টাকা! সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

দুটি-সিদ্ধ-ডিমের-দাম-২০০৪-টাকা--সোশ্যাল-মিডিয়ায়-তোলপাড় পাঠকই সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ