১৯৩৮ সালে দেশে ফেরীতে পার হতো ট্রেন

০৪:৩৬:০৪ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সর্বশেষ সংবাদ :

     • ৮টি খাবার কখনোই খালি পেটে খাবেন না     • মেসির বাড়ি খুঁজে বের করে একি করলেন বাংলাদেশি তরুণ!     • সেই স্বপ্ন পূরণে ধোনির জন্য প্রায় ১৯০০ কি.মি পাড়ি দিলেন যুবক!     • আমি আর জীবনেও বিচারক হব না : শবনম ফারিয়া     • মিয়ানমার সেনাপ্রধানকে কালো তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র     • অধিনায়কত্ব নয়, মায়ের অপারেশন নিয়েই বেশি চি'ন্তি'ত মোসাদ্দেক হোসেন     • বেলুন বিক্রি করছিল, রাস্তার মাঝে ছোট্ট শিশুকে জড়িয়ে ধরলেন নুসরাত     • নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাঙালী পোশাকে অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর পরণে শাড়ি     • মোটরসাইকেল দু'র্ঘট'নায় ছাত্রলীগ নেত্রী নিহ'ত     • ওয়াজ মাহফিল যেন কারো কষ্টের কারণ না হয়

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৩৭:৫৭

১৯৩৮ সালে দেশে ফেরীতে পার হতো ট্রেন

১৯৩৮ সালে দেশে ফেরীতে পার হতো ট্রেন

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে একসময় ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো খুবই নাজুক। এমন সংকটময় সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে ১৯৩৮ সালে চালু করা হয় বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে ফেরী। এর নামকরণ করা হয় বাহাদুরাবাদ রেল ফেরী ঘাট।

ফলে আলোচিত ও ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এই ইউনিয়নটির অবস্থান। বলা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাহাদুরাবাদ। শুধু দেশেই নয়, একসময় এর পরিচিতি ছিলো বিশ্বজুড়ে। বাহাদুরাবাদের বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছিলো সেখানকার ফেরী ঘাট। একসময় বাংলাদেশের মাত্র ৪টি নৌ থানার মধ্যে এবং মাত্র ২টি রেলওয়ে ফেরীঘাটের মধ্যে একটি ছিলো এই বাহাদুরাবাদ।

এক সময় বাহাদুরাবাদ ছিলো একটি কোলাহোলপূর্ণ ব্যস্ত লোকালয়। সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি নদী ভাঙন ও নানা কারণে হারিয়েছে তার গৌরবজ্জ্বল সময়। ১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে চালু করেছিলেন বাহাদুরাবাদ রেল ফেরী। তখন এ পাড়ে ছিলো বাহাদুরাবাদ ঘাট আর অন্য পাড়ে গাইবান্ধার তিস্তা পাড় ঘাট। ১৯৩৮ সালে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় তিস্তামুখ ঘাট ও জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটে যমুনা নদীতে রেল ফেরীর সার্ভিস চালু করা হয়। তৎকালীন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর জেলার গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগর ও ঠাকুরগাঁও জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পারাপারের জন্য যোগাযোগ গড়ে তুলতেই এ ফেরী সার্ভিসটি চালু করা হয়। এরপর থেকেই এ ঘাট দিয়ে স্বল্প ব্যয়ে অল্প সময়ে যাত্রী পারাপার, কৃষি পণ্য, ডিজেল, সার সরবরাহসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করা হতো। ১৯৯০ সালের পর যমুনা নদীর নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ফেরী সার্ভিসটি তিস্তামুখ ঘাট থেকে বালাসী ঘাটে স্থানান্তর করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের আগে দিনাজপুর থেকে রংপুর হয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট পর্যন্ত ট্রেনে যাতায়াত করতো এ অঞ্চলের মানুষ। এছাড়াও সান্তাহার, বগুড়া, বোনারপাড়া হয়েও ট্রেনে এ ঘাট দিয়ে মানুষ চলাচল করতো।

তবে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর পর থেকে যাত্রীবাহী লোকাল, মেইল ট্রেন ও আন্তঃনগর একতা, তিস্তা, করতোয়া ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে কিছুদিন মালবাহী ওয়াগন চলাচল করলেও ওয়াগন ফেরী বন্ধ থাকায় তা নিয়মিত চলাচল করে না। বছরের অধিকাংশ সময়ই ওয়াগন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। তবে নৌ পরিবর্তিত নৌ চ্যানেলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেলওয়ে ফেরী ঘাটেরও স্থান পরিবর্তন শুরু হয়। উত্তরাঞ্চলের এই ঘাটটি তিস্তামুখ, ফুলছড়ি, অবশেষে বালাসী ঘাট নামে রেলওয়ে ফেরীঘাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৮৮’র বন্যায় বালাসী ও বাহাদুরাবাদ ২টি ঘাটেরই মূল নকশা বদলে যায়। নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার ঘাটের অবকাঠামো পরিবর্তন ও এর ব্যয়ভার রেলওয়ের বার্ষিক বাজেটের ওপর প্রভাব ফেলে। এর অনেক পরে ১৯৯০ সালের দিকে যমুনা নদীর নাব্যতা কমে এলে ওপাড়ের ঘাটের নতুন ঠিকানা হয় গাইবান্ধার বালাসীতে। এই ২ঘাটেই ভীড়তো বড় জাহাজ, লঞ্চ, স্টিমারসহ নানা নৌযান। এই ঘাট বা নৌবন্দরের মাধ্যমে পরিবহন চালু ছিলো দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে। এই রেলওয়ে ফেরী সার্ভিসটি যাত্রা শুরু করেছিলো আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে। ফেরীর লাইনের সংখ্যা ১৩টি এবং একেকটি লাইনে ৩টি করে বগি বা ওয়াগন নেয়া যায়।

১৯৮৯ হতে ২০০৪ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বালাসী বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে রেলওয়ে ফেরী পারাপারে অনন্য ছিলো। এর মাধ্যমে তিস্তা ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ২টি যমুনার উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম তীরের রাজশাহী, রংপুর বিভাগের যাত্রাপথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এছাড়াও পূর্ব তীরের সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের একমাত্র সহজ ও স্বল্পব্যয়ী রেলওয়ের যাতায়াত রুটে পরিণত হয়। তবে যমুনা ও তিস্তা নদীর নাব্যতা এতটাই নীচে নামতো যে, নদী পথে মাত্র ৪ মাস ফেরী চলাচল করা সম্ভব হয়। স্থানীয় বড়সর মহাজনী নৌকাগুলোও চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এই ফেরী ঘাট দিয়ে একতা ও তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চলাচল করতো। গ্রীষ্মকালে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় চলাচলকারী স্টিমার ও ফেরীগুলো চোরাবালিতে মাঝ নদীতে আটকা পড়তে থাকে। বালাসী ঘাটে পানির নাব্যতা একেবারেই কমে যাওয়ায় ঢাকা ও দিনাজপুরগামী ট্রেনের যাত্রীরা নৌকা দিয়ে পারাপার শুরু করে। শুকনো মৌসুমে এই নৌকা পারাপার একটি বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেলপথ বসানোর কাজ শেষ হওয়ায় ১৪ জুলাই ২০০৫ সালে। রেলওয়ে বিভাগ বালাসী বাহাদুরাবাদ রেলওয়ে ফেরী পারাপার বন্ধ করে। তার পরিবর্তে যমুনা সেতুর উপর দিয়ে রেল চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে উত্তারাঞ্চলের জেলা গুলোর সঙ্গে সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তখন এই রেল পথে চলাচল করার একমাত্র গন্তব্য ছিলো বাহাদুরাবাদ ঘাট। আর অভাবনীয় বিষয়টি হলো বাহাদুরাবাদ এক্সপ্রেস নামে একটি মাত্র ট্রেনই ছিলো। আর তা চট্টগ্রাম থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট ও রাজশাহী থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত যাত্রী আনা নেয়া করত। কালক্রমে নদী ভাঙনের ফলে বাহাদুরাবাদ ঘাট আজ সেই ইউনিয়ন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতি ধারণ করে বাহাদুরাবাদ ঘাট রয়েছে ঠিকই। তবে অতীতের সেই জৌলুস এখন আর নেই।

প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাহাদুরাবাদ ফেরী ঘাট। একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে যমুনা সেতু চালুর পর যমুনা নদীর ভাঙ্গন ও নাব্য হ্রাসের অজুহাতে গাইবান্ধার বালাসীঘাট এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে রেলওয়ে ফেরী সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ফেরী সার্ভিসটি বন্ধ থাকায় রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৩ জেলার পণ্য সরবরাহ এবং যাত্রী পারাপারে বহু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বালাসী ও বাহাদুরাবাদঘাটকে কেন্দ্র করে উপার্জনশীল কুলি, শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ী, কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে।

বাহাদুরাবাদ অঞ্চলে ঠিক কতো সালে লোকালয় গড়ে ওঠেছিলো ইতিহাসে তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারনা করা যায়, বাহাদুরাবাদের ইতিহাস কয়েক’শ বছরের পুরনো। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীর প্রতি সংহতি জানিয়ে শেষ বিদ্রোহী নেতা সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামানুসারে এ এলাকার নামকরণ করা হয় বাহাদুরাবাদ। যে নামটি বহাল রয়েছে প্রায় ১৫০ বছর ধরে। অনুলিখন : সালেহ্ বিপ্লব, সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম/নিউজ ফর টুডে 



খেলাধুলার সকল খবর »

ইসলাম


ওয়াজ মাহফিল যেন কারো কষ্টের কারণ না হয়

ওয়াজ-মাহফিল-যেন-কারো-কষ্টের-কারণ-না-হয়

ইউরোপের পর এবার আমেরিকায়ও ব্যাপক জনপ্রিয় নাম ‘মুহাম্মাদ!

ইউরোপের-পর-এবার-আমেরিকায়ও-ব্যাপক-জনপ্রিয়-নাম-‘মুহাম্মাদ-

মহাকাশ নিয়ে কোরআনের বিস্ময়কর ১০ তথ্য

মহাকাশ-নিয়ে-কোরআনের-বিস্ময়কর-১০-তথ্য ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


৮টি খাবার কখনোই খালি পেটে খাবেন না

৮টি-খাবার-কখনোই-খালি-পেটে-খাবেন-না

খেজুরের ১১ অসাধারণ ঔষধি গুণাগুণ

খেজুরের-১১-অসাধারণ-ঔষধি-গুণাগুণ

ঘরে পিঁপড়ের সারি? জেনে নিন জীবনে কী হতে চলেছে!

ঘরে-পিঁপড়ের-সারি--জেনে-নিন-জীবনে-কী-হতে-চলেছে- এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


তামিমকে নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করে পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

প'রকী'য়া জেনে ফে'লাতেই ৩ জনকে হ'ত্যা, গ্রেফ'তার প্রবাসীর স্ত্রী

খেজুরের ১১ অসাধারণ ঔষধি গুণাগুণ

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতলো বাংলাদেশ

বিচিত্র জগৎ


অবশেষে হাসপাতালে গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য স্বামী নিজেই হয়ে যান চেয়ার!

অবশেষে-হাসপাতালে-গর্ভবতী-স্ত্রীর-জন্য-স্বামী-নিজেই-হয়ে-যান-চেয়ার-

চা না খেয়ে দিনের কাজ শুরু করে না এই ঘোড়া!

চা-না-খেয়ে-দিনের-কাজ-শুরু-করে-না-এই-ঘোড়া-

অর্ধেক দাড়ি কামিয়ে ছবি পোস্ট করে ২৩ লাখ টাকা আয় করলেন জ্যাক ক্যালিস!

অর্ধেক-দাড়ি-কামিয়ে-ছবি-পোস্ট-করে-২৩-লাখ-টাকা-আয়-করলেন-জ্যাক-ক্যালিস- বিচিত্র জগতের সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ