এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শহিদ মিনারের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ বাজারে টিনের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একটি দোকানে ব্যবসা করে আসছিলেন। দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু তাকে দোকান ছেড়ে দিতে বললে জাহিদুল ইসলাম জামানতের ৩৫ লাখ টাকা ফেরতের শর্তে রাজি হন। কিন্তু মালিক টাকা না দিয়ে দোকান জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন।
গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় দোকান ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ইতিয়াক বাবু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে মারধর করে আহত করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বদরগঞ্জ শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের সমর্থকরা।
মানববন্ধন চলাকালে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিকের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ গ্রুপ অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে মানববন্ধনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়, মাইক ভাঙচুর হয় এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম, লাভলু হাজী ও ময়নাল উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী মোতায়েন আছে।’
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলার তিন বিএনপি নেতা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক, সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।