বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৫:৫২

সরবরাহ বাড়ায় পানির দরে আলুর কেজি!

সরবরাহ বাড়ায় পানির দরে আলুর কেজি!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বেশ কয়েক মাস স্থিতিশীল ছিল চিনির বাজার। দীর্ঘ সময় খোলা চিনির কেজি ১০০ টাকার ঘরেই ছিল। দাম কমে এক পর্যায়ে ৯০ টাকায় নামে। তবে এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে ফের ১০০ টাকায় উঠেছে দাম। প্রায় একই দরে বিক্রি হচ্ছে প্যাকেট চিনিও। এ ছাড়া সবজি, ডিম-মুরগিসহ অন্য নিত্যপণ্যের বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থির দেখা গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর প্রায় পুরোটা সময় ধরে চিনির দাম স্বাভাবিক ছিল। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বাজারে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। এখনও ঘাটতি নেই। তবে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে চিনির বস্তায় (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

দেশে পরিশোধিত চিনির দর সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা ছুঁয়েছিল ২০২৩ সালের শেষদিকে। পরের বছরের কয়েক মাসও এই দর ছিল। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গত বছরের প্রায় পুরোটা সময় চিনির কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। শেষ কয়েক মাস দর কমে ৯০ টাকায় নেমে আসে। এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। 

গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোলা প্রতি কেজি চিনি ১০০ ও প্যাকেট চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে খোলা চিনির কেজি কমবেশি ৯০ ও প্যাকেট চিনি ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে কেজিতে দর বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। 

কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর চিনির বাজার অনেক স্বাভাবিক ছিল। দাম কমে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন আবার বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। পাঁচ-ছয় দিন ধরে পাইকারি বাজারে বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। এ জন্য খুচরা বাজারেও দাম বাড়তি।

এদিকে বাজারে শীতের সব ধরনের সবজির সমারোহ দেখা গেছে। দামও নাগালে রয়েছে। খুচরা বাজারে বেশ কয়েকটি সবজি ৫০ টাকার কমে কেনা যাচ্ছে। মানভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায়, গেল সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মূলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। বেগুনের দর নেমেছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহের মতো মাঝারি আকারের ফুল ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। কাঁচামরিচের কেজি কেনা যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। 

বরাবরের মতোই পতন রয়েছে আলুর বাজারে। সরবরাহ বাড়ার কারণে নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। তবে কোথাও কোথাও ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে পুরোনো আলুর ক্রেতা কমে যাওয়ায় দর নেমেছে ১৫-১৬ টাকায়।

গত সপ্তাহের মতোই আমদানি করা মোটা দানার মসুর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। আর ছোলার কেজি কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ছোলার কেজি ছিল কমবেশি ১১০ টাকা।

আলুর মতো পেঁয়াজের বাজারও পড়তির দিকে। বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যা গেল সপ্তাহে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে কমেছে ১৫ টাকা। গত সপ্তাহের মতোই নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে।

ডিম ও মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫ থেকে ১১০ আর সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্রয়লারের কেজি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে