সোমবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৫২:৫৪

সিলেটে এম এ মালিককে যা বললেন ডিসি

সিলেটে এম এ মালিককে যা বললেন ডিসি

ওয়েছ খছরু: ধোঁয়াশা কেটেছে সিলেটের এম এ মালিকের। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলার রিটার্নিং অফিস ও জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম। 

এ সময় এমএ মালিক জেলা প্রশাসকের সামনেই বসা ছিলেন। মনোনয়নপত্র গৃহীত হওয়ার পর তিনি বললেন; ‘আলহামদুল্লিাহ’। এমএ মালিক সিলেট-৩ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি তিনি। তার মনোনয়নপত্র নিয়ে টেনশনে ছিলেন সিলেট বিএনপি নেতারা। 

কারণ; এ আসনে বিএনপি’র কোনো ডামি প্রার্থী দেয়া হয়নি। যদি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যেতো তাহলে বিএনপি’র প্রার্থী এ আসনে লড়াই করতে পারতেন না। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এ আসনে হাফ ছেড়েছেন বিএনপি নেতারা। শনিবার বাছাইকালে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টির কারণে মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার। 

তখন নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন; দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন প্রমাণ সম্বলিত কাগজপত্র দাখিল করার জন্য। পরবর্তীতে এমএম মালিক সেসব কাগজপত্র দাখিল করেন। গতকাল রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং অফিসার তার কাগজপত্র গ্রহণ করে জানান, ‘সিলেট-৩ আসনে পেন্ডিং ছিলেন আব্দুল মালিক। তার দল বিএনপি। উনাকে যে ডকুমেন্টের কথা বলা হয়েছিল সেটি তিনি দিয়েছেন। আমরা তার আবেদন গ্রহণ করছি। মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে।’ 

তিনি জানান, ‘এই প্রভিশনটা হলো যদি কোনো নাগরিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে, এমনকি তিনি পাস করার পরও যদি তার আবেদন হোম অফিসে সারেন্ডার হয়নি বা এক্সেপেক্টেড হয়নি তাহলে তার মনোনয়নশিপ বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু এ মুহূর্তে হোম অফিস বন্ধ আছে আমরা আপাতত তার কাগজপত্রকে সত্য ধরে নিয়ে নিচ্ছি। ধরে নিয়েই যেহেতু আজকে লাস্ট ডেইট তার মনোনয়নপত্র আমরা গ্রহণ করছি।’ 

ডিসি জানান- ‘পরবর্তীতে যদি দেখা যায় আবেদন গৃহীত হয়নি, কিংবা সাবমিশন হয়নি অথবা হোম অফিস ডিনাই করেছে তাহলে উনার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। এমনকি উনি যদি পাস করেন তারপরও বাতিল হতে পারে। এখন আমরা তার আবেদনটি গ্রহণ করেছি।’ এদিকে- ‘মনোনয়নপত্র গ্রহণ হওয়ার পর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে শুকরিয়া জানান এমএ মালিক। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘মনোনয়পত্র স্থগিত তো এক্সুয়েলি না। আমি ১৬ তারিখে লন্ডনে সিটিজেনশিপ জমা দিয়েছি। জমা দিয়ে আমি চলে আসছি। আমার সলিসিটার দেখভাল করছে। হোম অফিস সেটা রিসিভও করেছে। কিন্তু লন্ডনে আপনে জানেন যে ক্রিসমাস, নিউ ইয়ারের সময় ২-৩ সপ্তাহ বন্ধ থাকে। তাদের অফিস খুব স্লো যায়। যে কারণে রিপ্লাইটা দেরি হচ্ছে। কিন্তু আমি তো জমা দিয়ে দিয়েছি। রিপ্লাইটা এতো তাড়াহুড়া করার দরকার তারা মনে করছে না।’ 

তিনি বলেন- ‘প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের আইন পালন করেছেন। আমি আমার প্রমাণ দেখিয়েছি। অবশেষে বৈধতা ফিরে পেয়েছি।’ এদিকে- সিলেটে স্থগিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আরও ৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। এরমধ্যে একজন বিএনপি মনোনীত ও অপর দু’জন জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী। আর বাতিল হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়ন। 

সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এই ৪ জনের বৈধতা ও একজনের মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেন। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান ডালিম ও সিলেট-৬  আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ার পর শোকরিয়া আদায় করেছেন মুজিবুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন- জাতীয় পার্টি সিলেট-৪ আসনে জনগণের দল হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াই করছে। এ আসনের উন্নয়নে অতীতে সাবেক   প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাজ করেছেন। আগামীতেও এ আসনে উন্নয়ন হবে।-মানবজমিন

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে