আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে আর্থিক চাপ ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি সামনে রেখে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন পে স্কেল ঘোষণা না হলেও একটি ফ্রেমওয়ার্ক ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হবে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন বর্তমান সরকারের কাছে জমা দেবে কমিশন, পরবর্তী সময় নির্বাচনের পর নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার পে-কমিশনের একটি দীর্ঘ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান।
পে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বেতনের অনুপাত নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে- ১:৮, ১:১০ ও ১:১২।
এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব আসে- ২১ হাজার, ১৭ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা।
এদিকে, কমিশন সূত্র জানায়, স্বল্প সময়ের কারণে বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে না। তবে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি কাঠামো চূড়ান্ত করে তা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন কাজ চালালেও ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল নির্ধারণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি পে-কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত।