এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভারত থেকে আমদানী বন্ধের খবরে পেঁয়াজের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ আগেও ৩৫-৪০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় অজুহাতে প্রায় দ্বিগুণ ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন পরেই পবিত্র রমজান মাস আসছে। অন্য সময়ের তুলনায় রমাজানে পেঁয়াজার চাহিদা থাকে বেশি।
এদিকে আমদানীকারক, পাইকার আর মজুদদার কারসাজির ব্যবস্থা নিতে না পারলে পেঁয়াজের কেজি রমজানে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব হয় না বলে প্রতিবছরই ভারত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করে। এবার দেশের পেঁয়াজ চাষিদের কথা চিন্তা করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে পূর্বের আমদানির অনুমতি থাকা তা চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি করতে পারবেন আমদানিকাকররা। এদিকে রোজার আগে আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশের বাজারে এ পণ্যটির দাম আবার বেড়ে যাবে বলে দাবি আমদানিকারকদের।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত নতুন করে ভারত থেকে দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে পুরোনো আমদানির অনুমতির বিপরীতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে আমদানিকৃত কোনো পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। গত ১৫-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি চালানে ১৩টি ট্রাকে করে ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, দেশে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। এর ফলে তিন মাস বন্ধের পর আবারও গত ৭ ডিসেম্বর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। প্রথম দিকে আমদানির অনুমতির পরিমাণ কম দেওয়ায় চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল না। পরে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে দেশের সব বন্দরগুলো দিয়ে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রততি সরকার আবারও পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সকাল থেকে আমদানির অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা চিঠি ইস্যু করা হয়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে দেশের বাজারে কোনভাবেই পেয়াঁজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।