এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্তে নতুন করে আমদানির অনুমতি (আইপি) বন্ধ থাকায় গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ও নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বরের পর ভোমরা বন্দর দিয়ে আর কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ ওই দিন মাত্র ১১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। মূলত নতুন আইপি ইস্যু না হওয়ায় আমদানিকারকরা এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছেন না। ফলে বন্দরকেন্দ্রিক পেঁয়াজ ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় ঠেকেছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়ছে না।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক গণেশ চন্দ্র বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের পাইকারি বাজারের বড় চাহিদা পূরণ করে। আমদানি বন্ধ থাকলে বাজার স্বাভাবিক রাখা কঠিন। এর মধ্যেই পাইকারি বাজারে দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চললে রোজার আগেই পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আমদানিকারকদের দাবি, নিয়মিত আবেদন করা সত্ত্বেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নতুন কোনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
আমদানিকারক তপন বিশ্বাস জানান, আনুষ্ঠানিক কোনো প্রজ্ঞাপন না থাকলেও মৌখিকভাবে তাদের জানানো হয়েছে যে বর্তমানে আইপি ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোমরা স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক বলেন, বর্তমানে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাদের আগে অনুমতি নেওয়া ছিল, তারা আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আনতে পারবেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত আমদানির জট না খুললে কিংবা বাজারে তদারকি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের জন্য পেঁয়াজ কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তা উভয়পক্ষই।