শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১:১৩

ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাইলে ধানের শীষে ভোট দিন: তারেক রহমান

ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাইলে ধানের শীষে ভোট দিন: তারেক রহমান

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কী হয়েছে? চব্বিশের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি- সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় তাদের সমস্যাগুলোর যাতে সমাধান হয়। মানুষ তার চলাফেরা, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ-তরুণী যারা আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা- এগুলোর সমাধান চায়।

আমরা অতীতে দেখেছি, এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে? কাজেই আমরা যদি অতীতের সব কাজ বিবেচনা করি দেখব- এই দেশের মানুষ একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে- ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তারেক রহমানের এটা প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ। বুধবার রাতে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর বৃহস্পতিবার সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

ভাষানটেকের এই নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আসেন। ভাষানটেক এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা, তা জানার জন্য তারেক রহমান সমাবেশস্থল থেকে নিজে মাইক নিয়ে ভাসানটেকের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, তরুণ শিক্ষার্থী, প্রান্তিক শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ব্যক্তি ও নারীকে খুঁজে খুঁজে ডেকে আনেন এবং তাদের কাছে ভাষানটেকের সমস্যাগুলো কী জানতে চান। 

তারা বলেছেন, ভাষানটেকে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন তারা চায়, চায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড- তারা সবাই তার নিশ্চয়তা চায়।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিও এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে এখানে অনেক দিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন। স্বাভাবিকভাবেই আজকে যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি, আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি- ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ অন্য যে সমস্যাগুলোর কথা এখানে বলা হলো- ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব।

বিএনপি খেলোয়াড় তৈরি করতে চায় জানিয়ে মঞ্চে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে এখানে আমিনুল হক আছেন। সবাই চিনেন তাকে। ছেলে হোক, মেয়ে হোক- তারা যাতে প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে, ক্রীড়া দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে, সেই প্রতিভাগুলোকে আমরা বের করে নিয়ে আসতে চাই।

তিনি বলেন, দেশে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫/১৬ বছরে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংস হওয়ার ফলে আজকে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন, তাহলেই কিন্তু আপনি একমাত্র আপনার এলাকার সমস্যা, আপনার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি কি ঠিক কথাটা বলেছি?

ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, বিগত ১৫ বছর যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল- আপনারা কি তাদের কাছে যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেননি। সেজন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। 

সেটা শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, ঠিক একইভাবে আমাদের সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক- সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। অর্থাৎ জবাবদিহিতা থাকতে হবে। জনগণ কী চায়, জনগণের সমস্যা কী- যারা জনপ্রতিনিধি হবে, তাদের অবশ্যই তা জানতে হবে। 

আজকে যেভাবে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আপনাদের কাছ থেকে আপনাদের সমস্যাবলী যেভাবে জানতে চেয়েছি- আমি চাই, আমার ইচ্ছা, আমার প্রত্যাশা- আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যায়ে যারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তারা এইভাবে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তাদের সমস্যাকে চিহ্নিত করবেন এবং এগুলো সমাধানে উদ্যোগী হবেন।

জনসমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়, একই সাথে সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে অর্থাৎ মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা- এগুলোকে যদি আমাদের এড্রেস করতে হয় এবং এই সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমিক সমাধান করতে হয়, অবশ্যই আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। 

মানুষের নির্বাচিত সরকার তাদের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। আসুন, আমরা একটি শপথবাক্য পাঠ করি- ‘করব কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ’। একই সাথে আপনাদের অনুরোধ করছি, যেই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম- সেই পরিকল্পনাগুলোকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। 

এ জন্য আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরিচিতজন যারা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাদের আপনারা ধানের শীষে ভোট দিতে বলুন। আজকে আপনাদের প্রার্থী হিসেবে, আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন আপনারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালাম এবং প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের যৌথ সভাপতিত্বে এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে