এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকার দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রণীত নতুন ভূমি আইন জমির মালিকানা, খাজনা আদায় এবং ভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জমির মালিকদের জন্য চালু হচ্ছে আধুনিক ও ডিজিটাল ‘ভূমি মালিকানা সনদ (CLO)’, যা স্মার্ট কার্ড আকারে ইউনিক নম্বর বা কিউআর কোড যুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে এই সনদ জমির মালিকানার চূড়ান্ত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. খাজনা পরিশোধে নতুন নিয়ম: কোনো জমির খাজনা ধারাবাহিকভাবে তিন বছর না দিলে সেই জমি সরকারি মালিকানায় চলে যাবে এবং খাস জমি হিসেবে বাজেয়াপ্ত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২. জালিয়াতি ও অবৈধ দখলে কঠোর শাস্তি: ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অবৈধ দখল রোধে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধ দখল বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই দেওয়া যেতে পারে।
৩. মালিকানা পরিবর্তনে CLO হালনাগাদ বাধ্যতামূলক: জমির মালিকানা বদল হলে দ্রুত ভূমি মালিকানা সনদ হালনাগাদ করতে হবে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪. কৃষিজমি রক্ষায় কড়াকড়ি: কৃষিজমি সংরক্ষণে কঠোর বিধান আরোপ করা হয়েছে। দুই বা তিন ফসলি জমি সাধারণভাবে অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ জনস্বার্থে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া, সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নতুন ভূমি আইন বাস্তবায়িত হলে দেশজুড়ে জমির মালিকানা নির্ধারণ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং খাজনা আদায়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অবৈধ দখল কমে আসার আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং জমির মালিকানায় স্থিতিশীলতা আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।