এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারতের রাজ্যসভা। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাবের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নথি পেশের আগেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন প্রয়াতদের উদ্দেশে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। এরপর তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গোটা সভা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যবৃন্দ।
ভারতের চলতি বাজেট অধিবেশন শুরু হয় বুধবার। রীতি মেনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্যদিয়েই অধিবেশনের সূচনা হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও মন্ত্রীসভার সদস্যরা এবং রাজ্যসভার সাংসদবৃন্দ। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে বিদায় জানান। এরপর শুরু হয় অধিবেশনের নিয়মিত কার্যক্রম।
এরই অংশ হিসেবে শোকপ্রস্তাবে উঠে আসে বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার নাম। পাশাপাশি রাজ্যসভার আরও দুই সাবেক ও প্রয়াত সদস্য—এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির প্রয়াণেও শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন।
শোকপ্রস্তাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বলা হয়, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পাশাপাশি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলনেতার ভূমিকাতেও ছিলেন। শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদান স্মরণীয়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। রাজ্যসভা তার পরিবার, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে।
এরপর স্মরণ করা হয় সাবেক সাংসদ এল গণেশনকে। ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি ৯১ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তামিলনাড়ু থেকে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। দ্রাবিড় আন্দোলনে অনুপ্রাণিত এই প্রবীণ রাজনীতিক কৃষক আন্দোলন এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শোকপ্রস্তাবে স্মরণ করা হয় আরও এক সাবেক সাংসদ সুরেশ কলমাদিকেও। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি ৮১ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। মহারাষ্ট্র থেকে চার দফায় রাজ্যসভার সদস্য থাকার পাশাপাশি তিনি লোকসভাতেও দায়িত্ব পালন করেন।
সুরেশ কলমাদি জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমির সাবেক ছাত্র এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই একদিকে যেমন ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক রূপরেখার সূচনা হলো, অন্যদিকে তেমনই সংসদের মেঝেতে স্মরণ করা হলো তিনজন গুরুত্বপূর্ণ জননেতাকে। প্রসঙ্গত, দেশের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সংসদীয় রীতি মেনেই প্রতিবেশী দেশের জাতীয় নেতা বা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।