এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দীর্ঘ দেড় যুগের প্রবাস জীবন কাটিয়ে, হঠাৎ করেই ঘরে ফেরা। সব মিলিয়ে যেন বাস্তবের মঞ্চে এক পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সিনেমা। প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সমাবেশে উপস্থিতি, কৌশলগত বার্তা, পরিকল্পনার ঝাঁপি—সব মিলিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে তাকে তুলে ধরা হয়েছে ‘বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তিত সন্তান’ হিসেবে—যা রাজনীতির অন্দর-বাহিরে নতুন করে তৈরি করেছে তর্ক, উত্তাপ আর কৌতূহল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত পছন্দ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালে তার প্রিয় সময় কাটানোর জায়গা ছিল রিচমন্ড পার্ক—যেখানে তিনি হাঁটতেন, চিন্তায় ডুবে থাকতেন কিংবা ইতিহাসের বই পড়তেন।
নিজের প্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন হলিউড সিনেমা এয়ার ফোর্স ওয়ান–এর নাম। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি সম্ভবত আটবার এটি দেখেছি! প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেমার সংলাপ ও প্রতীকী বার্তা থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা নেন।
টাইম ম্যাগাজিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে একজন তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি বিভিন্ন খাতে পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন। তার ভাবনায় রয়েছে জলস্তর পুনরুদ্ধারে ১২ হাজার মাইল খাল খনন, ভূমির অবক্ষয় ঠেকাতে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো এবং দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানীর জন্য ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা।
এছাড়া আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ জেনারেটর স্থাপন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং চাপে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সহায়তা দিতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনের একপর্যায়ে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করেন একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রের উক্তি—তবে সেটি এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়, স্পাইডার-ম্যান থেকে নেওয়া। তিনি বলেন, মহান শক্তির সাথে মহান দায়িত্ব আসে—আমি এটা খুব বিশ্বাস করি।
সব মিলিয়ে, তার প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক পদচারণা নয়—বরং পরিকল্পনা, প্রতীক আর বার্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত—এমনটাই তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক এই সাময়িকী।