এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, একটি দল ইসলামের দোহাই দিয়ে ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে উঠেছে।
তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থার কথা বললেও মূলত বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে দেশ পরিচালনা করতে চায়। যা ইসলামী হুকুমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, ক্ষমতার লোভে তারা আমেরিকা ও ভারতের আধিপত্যের প্রতি নতজানু। তাদের কথা ও কাজের কোনো মিল নেই। সোনার মতো চকচক করা জিনিস দেখতে আসল মনে হলেও যেমন প্রকৃত সোনা নয়, এগুলো ইমিটেশন।
ঠিক তেমনি কিছু লোক ইসলামের লেবাস পরে ইসলামের দোহাই দেন। তারা প্রকৃত ইসলামী দল নয়। বরং ভিন্ন দেশের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইসলামের নাম ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষে আমেরিকা ও ভারতের মতো দেশগুলোর আদর্শ এবং বিদেশি সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা আসলে ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে উঠেছে।
চরমোনাই পীর বলেন, আমরা এদেশে একাধিকবার বিএনপির শাসন দেখেছি। দেখেছি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসন। কেউ মুখে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবিরোধী কথা বললেও তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আরেকটি দল জোটে থেকে নিজেদের স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত বলার সুযোগ-ই নেই।
আবার ইসলামের দোহাই দিয়ে তারা জান্নাতের টিকেট দেওয়ার নামে প্রকৃত মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। মুসলমানের ঈমান আকিদার ওপর আঘাত করছে।
রেজাউল করিম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ সরকার দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া বানিয়েছে। দুর্নীতি করে দেশকে বিশ্বের কাছে অপমানিত করেছে। হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। এদের পরিচালনায় দেশের টাকা পাচার হয়েছে। ৫৪ বছর ধরে মানুষ যে নীতি-আদর্শে চলছিল, সেই নীতি-আদর্শের কারণে এ দেশের মানুষ যা চেয়েছিল, তা পায়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর ইসলামের পক্ষে আওয়াজ উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একমাত্র দল, যারা এদেশে মদিনার ইসলাম কায়েমে বদ্ধপরিকর।
জনসভায় হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি মাওলানা হাফিজুর রহমান, মুফতি ইমরান হোসাইন, মাওলানা আবু ইউসুফ ফারুকী, মুফতি হাবিবুল্লাহ ঈমন, মাওলানা আহমদ উল্লাহ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা নির্বাচনী আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুরশিদুল আলম, নির্বাচনী আসন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সমন্বয়কারী মাওলানা নুরে আলম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ লাকসাম উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবু ইউসুফ ফারুকী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লাকসাম উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, দলের মিডিয়া সমন্বয়কারী রশীদ আহমাদ রায়হান প্রমুখ।