এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ভোটের সিল জব্দের ঘটনায় জামায়াত নেতা জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ ও ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এ মামলায় আটক সোহেলকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। তবে আত্মগোপনে রয়েছেন জামায়াত নেতা শরীফ। ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা জামায়াতের আমির।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই থানার হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে শরীফ ও সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে। তিনি হাসপাতাল রোডের ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ এর মালিক। জাল ভোট প্রদানের লক্ষ্যে শরীফ অর্ডার দিলে সোহেল সিলগুলো বানিয়ে দোকানে রেখেছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকায় বশিরভিলা হলরুমে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে করে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই সিলকাণ্ডে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। জাল ভোটসহ জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র করার লক্ষ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।
এরপর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয় বলে জানান। তবে মামলার অপর আসামি সৌরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, সিলগুলো জব্দের পরপরই শরীফকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মারইয়াম প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তার দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ৬টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক সোহেল রানার বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত নেতা শরীফ ৩০ জানুয়ারি সোহেলের কাছে ৫টি নির্বাচনী সিলের অর্ডার করে। এ সংক্রান্ত একটি ভয়েস ম্যাসেজ তিনি সোহেলকে হোয়াটস অ্যাপে পাঠায়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে জাল ভোট প্রদানের লক্ষ্য অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করানো হয়েছে।
এসআই মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি। অপর আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। আর কেউ জড়িত আছে কি না ঘটনাটি তদন্ত চলছে।